2020
৬৪ জেলার ইতিহাস Aparupa Bengali Romantic Movie অতীত অন্যান্য অপরুপা অর্থিনীতির সংবাদ আইন-আদালত বিষয়ক পরামর্শ আকাঙ্খা আজিজুন নাহার আঁখির লেখা আঞ্চলিক সংবাদ আন্তর্জাতিক খবর আমার জীবন আমার স্বাস্থ আল্লামা মাহমুদুল হাসান ইচ্ছে ইতিহাস উন্নত স্বাস্থ কথা ঐতিহ্য ওমর ফারুকের লেখা কঙ্কাল কবিতা কমল কুমার রায়ের লেখা কয়েসাবা'র লেখা কিভাবে নিঃস্ব হয় শেয়ার মার্কেট খালিদ বিন আকরামের লেখা খেলা খেলাধুলা গ্রাম্য কবিতা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার খবর চাটুকার ছোট গল্প জাতীয় জাতীয় সংবাদ জিবাংলা আঞ্চলিক সংবাদ জীবনযাপন জেসমিন আকতারের লেখা জ্বীন-পরী ড: আসিফ নজরুল ডাকাত ডাকাতি ডাক্তারদের মহানুভবতা তথ্য এবং প্রযুক্তির সংবাদ এবং পরামর্শ তথ্য বিভাগ তারেক আল মামুনের লেখা তেলবাজ দেশাত্ববোধক কবিতা দেশের কবিতা দৈনন্দিন জীবন ধর্ম বিষয়ক আলোচনা নারী নারীকে নিয়ে কবিতা পপি প্রামানিকের লেখা পরশ্রীকাতর পর্যটন পল্লী কবিতা পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি পেত্নী প্রতিবাদী কবিতা প্রবন্ধ প্রবাস প্রবাসী প্রবাসের খবর প্রেমের কবিতা প্রেমের গল্প ফটো গ্যালারি ফরিদা ইয়াসমীন নার্গিসের লেখা বাবুনগরী পেলেন ৩ ভোট বাংলা কবিতা বাংলা গান বাংলা রোমান্টিক মুভি বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান বাংলার প্রকৃতি বিচ্ছেদের কবিতা বিরহের কবিতা বিরহের গান বেফাকের সভাপতি ভালবাসার কবিতা ভালবাসার গল্প ভালোবাসার অধিকার ভালোবাসার কবিতা ভালোবাসার গল্প ভুতের গল্প ভৌতিক গল্প মতামত মমতা পালের লেখা ময়না তদন্ত মায়ের কবিতা মিউজিক মুবারাত আহনাফ তাহমিদের লেখা মোঃ সেলিম হোসেনের লেখা মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়ার লেখা মোসা: সুলতানার লেখা রত্না রায় চৌধুরীর লেখা রমজান আলীর লেখা রূপসী বাংলা রেখা দাসের লেখা রৌদ্রময় শাখাওয়াত হোসেন যাযাবরের লেখা শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেমের লেখা শেয়ার মার্কেট শ্রেষ্ঠ নারী সহিদুলের কবিতা সহিদুলের লেখা সাহিত্য সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় সংবাদ সুমন সিকদারের লেখা সুমিতা দত্ত কানুনগো এর লেখা সোনার বাংলা সোহরাব হোসেনের লেখা স্বপ্নের সিঙ্গাপুর স্বাধীনতার কবিতা স্বাস্থ কথা স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ স্মৃতি


এ কেমন ডাকাত
সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে
মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া
চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নিই এসমস্ত গুনীজন কাকে বলে?
চোর
♠️
ইনি রাতে বা দিনে লোকচক্ষুর অগোচরে হাতের কাছে যা পান তাই নিয়ে সাধুর বেশে চলে যান।(অনেক সময় মনও নিয়ে যান)
ছিনতাইকারী
♠️
এ ভদ্রলোক রাতে বা দিনে সুযোগবুঝে রাস্তায় চলন্ত পায়ে হেঁটে অথবা কোন বাহনে থাকা ব্যক্তির সাথে যা থাকে খপ করে নিয়ে দেন ভোঁদৌড়-------
অজ্ঞানপাটি
♠️
ইনি রাস্তায় বা বাসায় যে কোন জায়গার ব্যক্তিকে ছলেবলে কৌশলে যেকোন পানীয়, পান, চকলেট, বিস্কুট, কলা ইত্যাদি খাবারের মধ্যে মালমশলা মিশিয়ে খাওয়ায়ে অথবা রুমাল বা টিসু্র মধ্যে কিছু সুগন্ধি মিশিয়ে তা অতি দরদ দিয়ে নাকে ধরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর তার কাছে থাকা জিনিস আরামে নিয়ে চলে যান।
ডাকাত
♠️
এবার আসলাম আসল জায়গায় ডাকাত নিয়ে কিছু লিখবার জন্য। ডাকাতদের কোন ভয়ডর নেই এরা আগের দিনে উড়োচিঠি দিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে ঘোড়া নিয়ে এসে নাকি ডাকাতি করে নিয়ে যেত।বর্তমানে ডাকাতেরা নিজেদের ডিজিটাল করেছে সেটা কেমন?
ধরুন কোন বড়লোকের ছেলেকে কালো মাইক্রো বাসে উঠালো তারপর তাকে দিয়েই বাসায় ফোন দিয়ে মোটাঅংকের টাকা দাবি করল, ব্যাস, কোন খাটুনি ছাড়াই ঘরে বসে পেয়ে গেল লক্ষ লক্ষ টাকা এটাকে আধুনিক বাংলায় মুক্তিপণ বলা হচ্ছে।
অনেক ️ভদ্রলোকগন নিজেরা কখনো কোন বিশেষ বাহিনীর পোশাক পরে বাসায় ঢুকে সবাইকে বেঁধে রেখে যা পাচ্ছে সব নিয়ে যাচ্ছে এটাকেও ডিজিটাল ডাকাতি বললে মন্দ হবেনা------
(কোন কোন ডাকাতিয়া চোখও নাকি অনেক মনকে আবার ডাকাতি করে)।

এবার মূল ঘটনাটা বলার চেষ্টা করছি ঘটনা ঘটেছে আমার এক প্রতিবেশীর------
ঘটনা কোন পুরুষ দ্বারা না, ঘটেছে মহিলা দ্বারা। দুজন মহিলা এক বিশাল ধনী মানুষের দরজায় খ---ট্--খ---ট্- --খ---ট্।
বাসায় কেউ আছেন?
বাসার ভিতর থেকে আর এক মহিলা কে? ও ----আপা, আমরা আপনার খালাতো বোন আছে যে শেফালী, তার ননদের--- ননদের-- ননদ---।
বাসার মহিলা ছিল সহজ সরল তার একমাত্র ছেলে ছিল লালজলের পাটি মানে নেশায় আসক্ত -------
মহিলা সহজ মনে দরজাটা খুলে দিলো দেখলো দু'জন বোরকা পরা এবং নেকাপ দিয়া ভদ্রমহিলা। বাসার মালিক মহিলার নাম" সরলা"। সরলা বলছে আসুন আপা বসুন। আহারে কতদুর থেকে আসছেন একটু রেস্ট করেন আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসি।ঐ দুজন বলছেন না বোন লাগবেনা বসুন একটু গল্প করি খাওয়াতে কী আসে যায়? আপনার তো অনেক কষ্ট একমাত্র ছেলে মাতাল,আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে বোন। আপনার দুঃখে বুক ফেটে যাচ্ছে সরলা তখন হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে বলছেন কত বড় বড় ডাক্তার দেখালাম! না কিছুই হলো না গো
এরপর----
দু'জন মহিলার একজন বলছে বোন কোথায় চা বানাতে হবে আমায় বলো আমি বানিয়ে নিয়ে আসছি তোমরা দু'জন গল্প করো।
সরলা বলছে আপা আপনি আবার কষ্ট করবেন?
হ বোন তোমরা দুখের গল্প করো আমিই বানিয়ে আনি। ব্যাস, বিশাল সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবেনা। সরলার স্বামী ছেলে সব বাইরে ফিরতে দেরি আছে অবশ্য কাজের মেয়েটা গেল ঐ মহিলার সাথে চা বানাতে------
কাজের মেয়েকে বলল তুই চিনি আন আমি এদিক দেখছি, যেমন কথা তেমন কাজ, মহিলা
চায়ের সাথে মেরে দিল" টা"আর সে চা কৌশলে সরলা আর কাজের মেয়েকে দিল প্রথমেই পান করতে, এরপর যা হবার তাই হলো এরা দুজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইলো আর আগন্তুকদ্বয় তাদের বাইরে ফোনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষ সাথীদের নিয়ে বাসায় যা ছিল টাকাপয়সা, সোনাদানা সব ঠাণ্ডা মাথায় তাদের নিজস্ব গাড়িতে তুলে চম্পট -------।
সরলা আর কাজের মেয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে -----।
স্বামী যখন বাসায় ফিরলো তখন মাথায় হাত
তো সম্মানিত পাঠকগন আপনারাই বলুন এটাকে কেমন ডাকাতি বলবেন?
এনালগ না ডিজিটাল?
আর এটা উপরের কোন পর্যায়ে পরে -------_
প্লিজ উত্তরটা না দিয়ে যাবেন না----


সমাজ সেবক ডাকাত।

তখন বর্ষাকাল চারিদিকে বন্যার পানিতে নড়বড় অবস্থা গ্রামের প্রায় সব কৃষকের ফসলী জমির আধাপাকা ধান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম অভাবের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অভাবের তাড়নায় গ্রামাঞ্চলের লোকজন ধরতে গেলে মরণাপন্ন অবস্থা, সর্বপরি দেখে মনে হচ্ছে তারা অভাবের সাথে একরকম যুদ্ধ করছে।
রসুলপুর গ্রামে ধনী গরীব বহুঘর লোকের বসবাস, তেমনিভাবে গ্রামের একপাশে চৌধুরী পাড়া। আর অপরপ্রান্তে সাধারণ মানুষের বাস। চৌধুরী পাড়ায় রহমান চৌধুরী হলো বিরাট বড় ধনী লোক এক কথায় অঢেল টাকা পয়সার মালিক।
চৌধুরী সাহেবের পরিবারে সদস্য সংখ্যা তিনজন রহমান সাহেব, তার স্ত্রী ও আদরের একমাত্র কন্যা অপরুপ সুন্দরী অর্নাস পাশ করা কেয়া চৌধুরী।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মত বাস করে জমির মোল্লা সাত আটজন সদস্যের পরিবার নিয়ে জমির মোল্লার সংসার চলছে মোমবাতির মত টিপটিপ করে। জমির মোল্লার বড় ছেলে - জসিম মোল্লা মার্স্টাস পাশ করা একজন শিক্ষিত ভদ্র নম্রস্বভাবের মানুষ।
চাকুরী না-পেয়ে সমাজে ও জমির মোল্লার সংসারে সে আজ একেবারেই বেকার। বেকারত্ব জীবন জসিমের বয়ে বেড়ানো বড়ই দুঃখের ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে পড়েছে।
জসিম বহুত চেষ্টা ও খোঁজাখুজির পর অবশেষে বেচে নিল সবচেয়ে জগন্যতম কাজ ডাকাতি পেশা, গড়ে উঠলো সমাজের বুকে এক দূধর্ষ ডাকাত হিসেবে, প্রায় ডাকাতি করেই চলে তার জীবন।
যদিও জসিম একজন শিক্ষিত ছেলে তাই তার হৃদয়ে অন্যায়কে মেনে নেওয়া বড়ই কষ্টের হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিল ডাকাতির বেশির অংশ সে গরীব দুঃখী জনগনের মাঝে বিতরণ করার জন্য যেন আল্লাহ একটু হলেও তার প্রতি খুশি থাকে।
কৃষি কাজে জমির মোল্লার সংসার ভালো চলে না তাই জসিম তার বাবাকেও কিছু সহায়তা প্রদান করে। এভাবেই আজ এক বাড়ীত কাল অন্য গ্রামে অস্ত্র হাতে মুখোশ পড়ে হামলা করে ব্যাপক সাহসের সাথে ঝাপিয়ে পড়ে জসীম।
ডাকাত জসীম একদিন বিকাল বেলা পাড়ার এতিম খানার নিকট দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল হঠাৎ শুনতে পেলো অনেক গুলো শিশু বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ, দ্রুত এতিমখানার ভেতর ঢুকে পড়ল এবং দেখল খাবারের অভাবে এতিম শিশুরা কতই কষ্ট করছে। জসীমের চোখ থেকে অনবরত গড়ছে অশ্রুধারা।
শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে বেরিয়ে আসল ডাকাত জসীম এবং মহাচিন্তায় সিদ্ধান্ত নিল আজ যেভাবেই হোক পাড়ার রহমান চৌধুরীর চালের গুদামঘরে ডাকাতি করবো। তারপরেই রাত ১২টায় জসীম কয়েক জন সাঙ্গ পাঙ্গ নিয় অত্যান্ত কৌশলে চৌধুরী সাহেবের গুদাম হতে ২০০ বস্তা চাল ডাকাতি করে এতিম খানায় নিয়ে গেল এবং সাথে কিছু নগদ টাকা সহ এতিম খানায় দান করল।
অসহায় গরীব দুঃখী জনগনের পাশে দাড়ানো জসীমের প্রায় নেশা হয়ে গেছে। জসীমের ডাকাতি করার উদ্দেশ্য হলো যারা এই সমাজে কখনো গরীব দুঃখী কে সাহায্য করে না তাদের অবৈধ সম্পদের প্রতি তার চরম রাগ ও জেদ।
এতসব ডাকাতির পরেও জসীম আল্লাহ কে বলে হে- আল্লাহ আমি তাদের ঘরে ডাকাতি করেছি, যারা অসহায়কে সহায়তা করে না, যদিও এ কাজে খুব পাপ তবুও বলি হে মাবুদ আমি যেভাবেই হোক গরীব দুঃখী অসহায় এতিমদের বেচেঁ রাখতে সাহায্য করছি। তার অছিলায় তুমি আমাকে ক্ষমা করিও।
অবশেষে রহমান চৌধুরী জানতে পারলো তার গুদাম ডাকাতি হয়েছে কিন্তু কোন অবস্থাতেই ডাকাত জসীম কে ধরতে বা সনাক্ত করতে পারল না।
তাই সে অনেক চিন্তার পরে সঠিক সিদ্ধান্ত নিল যে আমি আর কয়দিন বেঁচে থাকবো তাই আদরের কন্যাকে ভালো একজন নিস্বার্থবান পাত্রর সাথে বিয়ে দিয়ে সংসার ও চৌধুরী মঞ্জিলের দায়িত্ব অর্পন করবো।
মাইকে ঘোষণা করা হলো সন্ধান চাই---------------- যে ব্যক্তি সমাজে পরোপকারী নিঃস্বার্থ বান ও গরীব দুঃখী জনগনের পাশে দাড়াতে সক্ষম। সাতদিন গত হয়ে গেল কিন্তু কোনভাবেই এরকম কাউকে পেল না।
অবশেষে জসীম নিজেই চৌধুরী সাহেবের বাড়ী গেল এবং ভরা মজলিসে নিজেকে নিঃস্বার্থবান পরোপকারী অসহায় গরীব দুঃখী জনগনের বিপদের সাথী প্রমান দিল ও সব কর্মের ইতিহাস খুলে বলিল। রহমান চৌধুরী সব কথার যতেষ্ট প্রমান পেয়ে খুশি হয়ে তার সাথে আদরের কন্যাকে বিবাহ দিল। এবং জসীম ডাকাত প্রসংশার সহিত নতুন সংসার জীবনে ঈমানের সহিত চলতে শুরু করলো। তার পেক্ষাপটে জসীম --
সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করল।।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
সোহরাব হোসেন
(সহঃ শিক্ষক)
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সারিয়াকান্দি, বগুড়া।


ডাকাতি
রত্না রায় চৌধুরী
অনেক অনেক দিন আগের কথা। সেই ছোট্ট বেলা। বয়স পাঁচ, ছয় হবে। তখন রাউজান আঁধারমানিক গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। সে সময় গ্রামে ডাকাতদের উপদ্রব বেশি হত। দিনের বেলা যেমন তেমন, রাতটা কাটতো প্রচন্ড ভয়ে। কখন কার উপর ডাকাত হামলে পড়ে। রাতের বেলা খেয়ে দেয়ে বউ-ঝি'রা থালাবাসন ধুতে পুকুরপাড়ে যেত। আমিও যেতাম সাথে। দেখতাম পুকুরের ওপারে ডাকাতদল সারি বেঁধে বসে আছে। মাঝে মাঝে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। সবাই যখন ঘুমিয়ে পরবে তখনই হামলা করবে। ডাকাতের ভয়ে দামি দামি জিনিসপত্র রাতের বেলা ছাদে তোলা আর দিনের বেলা নামিয়ে আনা ছিলো নিত্যদিনের কাজ। অনেক সময় ডাকাতরা লোক পাঠিয়ে আগের দিন ঘরের দরজায় চিঠি রেখে যেত আর জিনিসপত্র ঠিক রাখার জন্য হুঁশিয়ারি দিত। ডাকাতদের অত্যাচার সইতে না পেরে গ্রামের লোকজন পালা করে সারারাত পাহাড়া দিত। আর উচ্চস্বরে হুঁশিয়ার-সাবধান বলে ডাকাতদের সতর্ক করতো। এতো গেল ছোটবেলার কথা। আর একটা অভিনব ডাকাতির কথা বলি। একেবারে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে সূর্যালোকে ডাকাতি। সময়টা ১৯৯০ সালের মার্চ মাস। সে সময় রমজান মাস ছিল। তখন আমি সদ্য বিবাহিতা নববধূ। বেলা ১০ টা বাজে। আমি রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ দেখি ৫ জন লোক এলো আল্লাহর নামে জিকির করতে করতে। এসেই বললো আপনাদের অনেক ভাগ্য যে ন্যাংটা বাবার নাতি এসেছে আপনাদের ঘরে। উনি সবার ঘরে যান না। যে ঘরে যান সে ঘরের ভাগ্য খুলে যায়। আপনারা অবহেলা করবেন না, বসতে দিন। আমার শ্বাশুড়ি ছিলেন ধর্মভীরু। তিনি তাড়াতাড়ি চেয়ার এনে দিয়ে বসতে দিলেন। ওমনি শুরু হয়ে গেল অভিনয়। ওদের মধ্যে কেউ লোকটার পা টিপে দিচ্ছে, কেউ শরীর টিপে দিচ্ছে, আবার কেউ বাতাস করছে আর পাশাপাশি বাবা বাবা ডেকে হয়রান হচ্ছে। হঠাৎ ন্যাংটা বাবার নাতি বলে উঠলো - তোদের অনেক বিপদ। এক গ্লাস পানি নে। পানি পড়া খেতে হবে সবাইকে। আমার শ্বাশুড়ি পানি নিয়ে আসলেন। সাথে সাথে লোকটা কি সব মন্ত্র পড়ে পানিতে ফুঁ দিলেন এবং সবাইকে খেতে বললেন। সবাই একটু একটু খেলো। যেই খাওয়া সে কাজ। ওমনি সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত কাজ করতে শুরু করলো। ওরা যা বলছে আমরা তাই করছি। আমাদের নিজস্ব বোধশক্তি বলে কিছুই ছিল না। হঠাৎ করে তারা ঢুকে পরলো আমার সেজ দেবরের ঘরে। আমার দেবর কুমিল্লা দোলাই নবাবপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ছিলেন। ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছেন। ওনার ব্যাগ ভর্তি টাকা ছিলো। বাবাকে ঘর খরচের টাকা দেবেন বলে এনেছিলেন। আমার দেবরকে দেখে ওই লোক বলে উঠলো - তোর অনেক বিপদ, তুই বাঁচবি না। তোর জন্য ছাগল মানত করতে হবে। জীবের বদলে জীব দিতে হবে। মক্কা শরীফ গিয়ে কান্নাকাটি করতে হবে। এসব শুনে আমার দেবর ভয় পেয়ে যায়। আগেই বলেছি, পানি খাওয়ার পর আমাদের কারো বোধশক্তি ছিলো না। আমার দেবর যেই ব্যাগ খু্লে টাকা দিতে যাবে, ওমনি ওরা সব টাকাগুলো দেখে ফেলে এবং আরো দে আরো দে বলতে বলতে সব টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওখানে প্রায় ৩৫০০০ টাকা ছিলো। তারপর ব্যাগের মধ্যে ফুঁ দিয়ে বলে ব্যাগ বন্ধ কর। কেউ ঘর থেকে বের হবি না। এই বলে ঝড়ের বেগে সবাই ছুটে পালায় আর রাস্তায় গিয়ে খিল খিল করে হাসতে থাকে। চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পরে আমরা সম্বিত ফিরে পাই। তখন বুঝতে পারি এতক্ষন ধরে কি ঘটনা ঘটেছিলো। কিন্তু বুঝলে কি হবে, কারো কিছু করার ছিল না। এই ঘটনাটা আমি আজও ভুলতে পারি না।

স্মৃতির পাতায় ডাকাত
কমল কুমার রায়
সত্য ঘটনা অবলম্বনে
সলটা ১৯৮৮ সাল হবে-----
তখন আমি ক্লাস ফাইভ - এ পড়াশুনা করি।এখনকার আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা হইতে অনেক পিছিয়ে পড়া সমাজ।
এখনকার ঝকঝকে বড় ন্যাশনাল হাইওয়ে তখন ছিল দুটি গাড়ি পাশ কাটিয়ে কোনক্রমে যাওয়ার পথ। তবে তখনকার পরিবেশে রাস্তার নিকট অর্থাৎ দু-ধরে পি-ডাব্লিউ-ডি দ্বারা সুন্দর সুন্দর গাছ লাগানো হতো এবং পথচারীদের গাছের তলায় বিশ্রাম নেওয়ার অপরপ পরিবেশ ছিল। যেটা বর্তমানে ঝকঝকে ওয়েটিং বা বিশ্রামঘর থাকলেও তখনকার সুন্দরতা এখনো অনুপস্থিত। যাইহোক সুন্দর রাস্তার পরিবেশের পাশে আমাদের একটি বাড়ি ছিল যাহা আম, জাম, পেয়ারা, নারকেল ও কাঁঠাল গাছের বাগান এর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। বাড়ির পশ্চিম দিকে 100 ফুট দূরে একটি পরিবার দক্ষিণে 100 মিটার দূরে একটি, উত্তরের একটু দূরে মাঠ তারপর একটি পরিবার পূর্বে এক টুকরো খালের পাশে একটি পরিবার ও দক্ষিণ- পশ্চিমে একটি পরিবার। তাছাড়া উত্তর-পশ্চিমদিকে 125 ফুট দূরে আমার ছোট কাকার পরিবার থাকতো। সকল পরিবারই গাছপালার দ্বারা আবদ্ধ ছিল। এই সীমানার পূর্বদিকের সেই সুন্দর রাস্তা রাস্তার ওপারে আমার জ্যাঠা মশাই এর ঘর।
ওই সম্মিলিত সীমানার পশ্চিম দিকে সম্পূর্ণ ফাঁকা ধানের ক্ষেত কোন লোকজন বসবাস নেই আছে তবে দু কিলোমিটার দূরে পশ্চিম দিকে, আবার আমাদের প্রিয় নদ জয়দেব পদ্মাবতীর নিকট অজয় নদের প্রবাহ ও তার বাঁধ। বাঁধের পাড় আবার গাছের দ্বারা আবৃত যেখানে দিনের বেলায় যেতেও ভয় করবে।
আমাদের বাড়ী হইতে নিকটবর্তী বাজার বা দোকানের পরিবেশ ছিল দেড় কিলোমিটার দূরে যেখানে কোনো সামগ্রী পাওয়া ও অবসর কাটাতে চায়ের দোকানে লোকজন ভিড় করত। সেই সময় মানুষের আর্থিক কষ্টে এর পরিমাণ ছিল অসীম। আমার বাবা চাকুরিজীবী হওয়ায় তখন কোনমতে কাদার গাঁথুনি দিয়ে ও ইটের সহযোগিতায় এক কামরার বাড়ি তৈরি করেছিলেন। তবে উপরে খরের চাল জানলা কোনমতে কাঠের ফ্রেম দিয়ে লাগানো।ঘরের মধ্যে পরিবেশ ছিল পুবদিকে ১.৫'✘১.৫' কাঠের জানালা, দক্ষিনে দরজা আর ভিতরে একটি ছোট্ট তক্তা। জানলার মাঝের জায়গায় লোহার রড ও পর্যন্ত লাগাতে পারেনি। ভালো করে ঘরটি মজবুত করার সময়ও পায়নি। পাশে একটি মাটির ঘর ছিল। এখানে প্রথমে আমরা থাকতাম।
এমন পরিবেশে বাবা সকাল বেলায় খেয়েদেয়ে অফিসে চলে যেতেন আর সন্ধ্যা সাতটার সময় ফিরে আসতেন। কোন কোন দিন নিকটবর্তী দোকানে বিশ্রাম নিয়ে রাতে বাড়ি আসতেন। রাত্রি হয়ে গেলে চারিদিকে নিস্তব্ধ নিঝুম ও দূরে কোথাও শিয়ালের ডাক শোনা যেত। সেই সময় চারিদিকে প্রায় ডাকাত পড়েছে ডাকাত পড়েছে এমন খবর শোনা যেত। তখনকার দিনের সম্ভ্রান্ত পরিবার মানে মোড়ল ছিল। আমাদের বাড়ি থেকে 300 মিটার দূরে বড় মোড়ল ও দুই কিলোমিটার দূরে ছোট মোড়লের পরিবার ছিল। আর্থিক দিক থেকে তারা উন্নত ছিল। একদিন হঠাৎ সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি বড় মোড়লের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। আমরা সবাই সেখানে গেলাম দেখলাম শুনলাম সব ডাকাতি করে নিয়ে গেছে আবার বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে চলে গেছে। সোনার গয়না অর্থ লুট করে নিয়েছে। আমরা সর্বদা রাত হলে ভীতসন্ত্রস্ত থাকতাম। রাতে ঘরের দরজায় খিল দিয়ে শুয়ে থাকলেও প্রায় ডাকাতের দলের পায়ের শব্দ শুনতে পেতাম। যেটার আওয়াজ আজও আমার কানে বেজে ওঠে ধ-প--ধ-প,ধ-প--ধ-প। এমন শব্দ শুনতে শুনতে হঠাৎই আমাদের বাড়িতে ডাকাত পড়লো। ঘরের মধ্যে সেই ছোট্ট তক্তায় আমার বাবা শুয়ে আছে আর আমি ও আমার মাতা পাটি/তালাই পেতে শুয়ে আছি।বাবার অনেক কষ্টের অর্থে গলার হার ও কানের দুল মাকে তৈরি করে দিয়েছিল। আমার মা ঐ-দিন ওই কানের দুল দুটি পড়ে ঘুমিয়ে ছিল। রাত গভীর থেকে গভীরতর হল। চারিদিক নিস্তব্ধ কোন কিছুর শব্দ নেই। প্রতিবেশীরাও নিঝুমে ঘুমাচ্ছে। দূরের শিয়ালের ডাক করে চলেছে। উত্তম পরিবেশ। এমন সময় আমরাও ঘরে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ, হঠাৎ দেখি দরজায় কড়া ও শিকল নাড়ার আওয়াজ। আমি ভয়ে সিটিয়ে গেলাম বাবা-মা ও সবাই সিটিয়ে গেল। দরজা খোল। দরজা খোল বলছি। এমন সময় একজন সেই জানলার পাটাদ্বয়কে জোরে ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেলল। আর সরু দন্ডের অগ্রভাগে ত্রিফলা লাগানো লোহার দন্ড(বল্লম) আমার মায়ের গলায় লাগিয়ে দিল। এবার দরজা খোল না হলে চালিয়ে দেব। বাবা তাড়াতাড়ি তাদের কথামতো বিছানা থেকে উঠে দরজা খুলে দিল। ডাকাতের দল সব ঘরে ঢুকে পড়ল।টর্চের আলো আমাদের ঘরের ভেতরে মারতে লাগলো। বলল কি কি আছে সব বার কর।সব দিয়ে দে।ট্রাংকের চাবি দে।বলে আমাদের সবকিছু নিয়ে চলে গেল। আমরা হতবাক হয়ে দেখতে লাগলাম। এমনকি আর্থিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করলে বাবার সকল ভাল জামা কাপড় তারা নিয়ে চলে গেল। তাদের মুখে সব কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা, চোখদুটি শুধু একটু দেখার মত। বাকি সব ঢাকা। আমার কাকিমা তখন তাঁতের ব্যাগ বুনতো ও আমাকে একটা দিয়েছিল আমার বিদ্যালয়ে বইপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য। ডাকাতের দল তখন সেই উপহারের ব্যাগটাও ডাকাতি করে নিয়েছে নিয়ে গেল। যেটার আফসোস আজও ভুলতে পারিনি। আজ আমার কাছে অগুনতি দামী দামী ব্যাগ আছে কিন্তু তখনকার দিনের স্মৃতির সেই ব্যাগ আজও আমার কাঁদিয়ে ছাড়ে। তবে ডাকাতি করার সময় তারা কোন রকম অত্যাচার করেনি। কারণ বাবা চাবিও সোনাদানা যা ছিল সবই দিয়ে দিয়েছিল। ডাকাতি করার পর তারা বাইরে থেকে দরজায় শিকল দিয়ে যায় এবং বলে চিৎকার না করতে। সেই রাতে আমার কাকা ডাকাতির ঘটনা বুঝতে পারে এবং তারা অর্থ সোনা দানা নিয়ে তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে পালিয়ে দূরে মাঠে চলে যায়। কারন তাদের সঙ্গে তো তারা পেরে উঠবে না। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর কাকারা আমাদের দরজা খুলে দিয়ে উদ্ধার করে। ডাকাতির ফলে বাবার অফিসে যাওয়ার জামাকাপড় পর্যন্ত ছিল না। তারফলে সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী কয় করে এনে বাবাকে অফিসে যেতে হয়। আর আমার বিদ্যালয়ে যাওয়ার ব্যাগটা নিয়ে যাওয়ায় দুঃখে আমাকে সাদা রঙের কাপড়ের পলিথিনের প্যাকেটে বইপত্র নিয়ে যেতে হয়। এই দুঃখের দৃশ্য আমৃত্যু স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমার মনের স্মৃতিতে।
যাইহোক এমন ডাকাতি যেন কোনদিনও কারো ক্ষেত্রে না ঘটে। আজ আমি পলিথিনের প্যাকেটে বইপত্র নিয়ে পড়াশোনা করেও বাবা মায়ের আশীর্বাদে শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে বিরাট পাওনা।

গল্প ছলে বুনো শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম বুনো, (আজ শুধু থাকবে তোমার আর আমার কথা) বুনো, বাইরে ঝুম বৃষ্টি। ঈষাণ কোনে কালো মেঘ! পিঙ্গল মেঘের আড়ালে দুটো পাতিকাক ডানা ঝাপটাচ্ছে! আমার মন মুয়ুরী পেখম তুলে নাচ্ছে তাথৈ তাথৈ করে! দেহে আদিম বান কুমারী জঠরে অনুঢ়া ফল! তুমি অহল্যার রাত্রিতে কাঁচা মাংসে মিষ্টি মধুর ঢেঁকুরে বৈঠাহীন পানসীতে পাল উড়িয়ে চাঁদ সওদাগর পাড়ি দিচ্ছো! নিঃশব্দে স্বপ্ন জাগরণে মর্মর ধ্বনী আর বেদনার গান! বুনো, আমি বিক্ষুব্ধ তরঙ্গ মালায় তোমার উর্মি গুণে যাচ্ছি কিছু ছোঁয়ার আবেশ নিয়ে! এসো বুনো, আঙ্গুলের সাহচার্যে মমতা গুনে যায় তারপর প্রেম লিলা কাঁচুলী ভরা বক্ষের উদ্দামতা নিয়ে। বুনো, সফেদা ফুলের রং রাতের আঁধারে ফোটে অমাবস্যার অন্তরালে আর জেগে থাকে আশাবরি রাগ! ঘর্মাক্ত শরীরে কেবলি নিষিদ্ধ ছোঁয়া জাগে ঢেউয়ের সাথে ফেনিল সাম্পান! বুনো, তুমি মানেই আজন্ম চাওয়া। তুমি মানেই তীব্র বাসনা। তুমি মানেই দীর্ঘশ্বাসের আলাপন। তুমি মানেই শান্তির বারি তুমি মানেই আদিম খেলা! চলো পাশা খেলি! চলো চখাচখি হই! চলো নিত্য বাসে নিত্য রসে একটা সঙ্গমবিহীন রাত কাটায়! বুনো, প্রস্তর মন তোমার সফেদ আয়না! কাব্যতে কি এসে যায় বলো! ইষ্ণ দোষ্ণ প্রেম প্রেম তোমার! কিছু উচাটন মন সদবা চাদর কি বৃষ্টি আলাপনে ভিজবে! পাজা কোলে করে ভাসিয়ে দাও বেনোজলে! আমি হবো খাম খেয়ালীর আকাশে সঙ্গমের ইন্দ্রধণু! যেথা, একটা রাত সেখানে একটা তুমি আর একটা তুমি নিবিড় পাশাপাশি!!!

তোমায় নিয়ে
তোমায় নিয়ে ভাবছি যখন
সারা দিবা রাতি,
তুমি তখন অন্যের ঘরে
জ্বালাও প্রেমের বাতি।
তোমায় নিয়ে লিখছি আমি
কবিতা আর গল্প,
অন্যের মোহে বিভোর তুমি
পড়তে পারোনিও অল্প।
তোমার জন্যে আঁখিজল
শুধুই ঝরছে অবিরাম,
সেই জলেতে যে ব্যাথা
নেই কোনো তার দাম।
তোমার লাগি বিনিদ্রাতে
কাটাই সারা নিশী,
মায়ামোহিনীকে জড়িয়ে ধরে
তাকে বলছো ভালোবাসি।
একলা আমি আর পারিনা
শুধুই ভাবছি আনমনে,
তুমি আমায় একলা ফেলে
সুখেই আছো তার সনে।
কেমন করে রইবো আমি
বন্ধু তোমায় বিহনে,
তোমার দেয়া সকল স্মৃতি
মনে পরছে ক্ষণে ক্ষণে।
কোন অপরাধে বন্ধু তুমি
গেলে আমায় ছাড়ি?
মনেতে শুধু অনল জ্বলে
কেনো মনটা নিলে কাড়ি?
তোমায় ছাড়া আর কিছুই তো
আসছে না স্মরণে,
জানি না কিভাবে যাবে দিন
পাবো কি মরণে?
______ আজিজুন নাহার আঁখি


পোড়ানো অতীত কেউ ছিলো এই তটে..... কেউ ছিলো এই গায়ে..... কেউ ছিলো এই বাড়ীতে! গর্জন গাছটা কবেই ফুড়ুৎ! আকাশী গাছ টাও! বারোয়ারীর জমির কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, শাল, অর্জুন, বেলী, জুঁই, চামেলী সব উজার! অকুল স্রোতে যে নদী ভাসিয়ে নিতো পারাবার, সে নদী বড় রুক্ষ! উড়ু হারানোর দুঃখে আলপথ ছায়াবাড়ী সব শেষ। এক চোখ কানা ভজন উদাস গলায় গাইতো বাউল গান আর পাতলা বেতে নিপুণ মাছের ঝাঁকা ছিলো তার সৃষ্টি সে আজ আর নেই.......! মৃত খালটা ভরাট প্রায়........,! বিচালী বিছানো উঠোন আর নেই! প্রবাসী ফুলের মতো...... বিশাল বিশাল পাকা বাড়ী ঘর! উঠোন জুড়ে চাতালের খর! যেনো, এখানে নোঙ্গর ফেলেছে হাহাকার! অন্ধের পৃথিবীতে শুধুই কাতরতা! . এখন আমি বলি, আমি একটি মা কে জানতাম! আমি একটি মমতাময়ী মুখকে জানতাম! আমি একটি বাড়ি কে জানতাম! আমি একটি নদীকে জানতাম! আমি একটি শেঁকড় কে জানতাম! আমি শতাব্দীর সীমানায় হারাতাম! আমি বুলবুলির ডানায় চিরকুট উড়িয়ে দিতাম। আমি অবলম্বনের রোদেলা মেঘ কে চিনতাম! ... ... . হে অতীত তোমার চোখের নীচে কালসীটে দাগ! বয়সের ভারে নুজ্য আমার গা! এখন দেখছি চাকচিক্য আর কোলাহল! .................হে অতীত কোথায় তুমি............ আধুনিকতার জৈবিক স্পর্শে তুমি হারিয়ে গেলে! পেছন থেকে কেউ তো ডাকেনা এই দাঁড়া........ কিছু কথা শোন! যে বাড়িতে কেটেছে আমার শৈশব কৈশোর সে বাড়ি হাসপাতালের চাদরের মতো নিস্পন্দ, নিস্প্রাণ! অতীত আর আমায় পিছু ডাকেনা! সভ্যতার জোয়ার ভাটার টানে হারিয়ে গেলাম অতলে অচেনায়!!!

শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম


স্বপ্নের রাজ্যে

৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
ভয়ে নিজ আতকে উঠি ভাবি হ্নদয় কোণে
স্বপ্নের কিছু কথা ভাই করিব বর্ণন,
তবে ভাইসব শুনুন মোর কথা
স্বপ্নে আমি উড়িয়ে চলি স্বপ্নের পাখায় চড়ে।
দেখো সবে---
স্বপ্নে আমি উড়ে চলি আপনজনের দ্বারে
সেথায় আমায় তারা ঘৃনায় চোখে দেখে,
সেখান থেকে উড়ে চলি সমাজের তরে
সেথায় দেখি তবে গোত্র-গোত্রে দ্বন্দ্ব বেঁধে রয়।
দেখো সবে---
ভয়ে আতকে উঠি-স্বপ্নের সমাচার বলি
ভয়ে আমি উড়ে চলি অচেনা কোনো গাঁয়ে,
সেখানে দেখি ইট পাথরের তৈরি ঘরবাড়ি
নেই অনুরাগ নেই ভালোবাসার ছবি।
দেখো সবে---
ভয়ের রাজ্যে ভয়েরা সব ঠোকাঠুকি করি
হায়! ভয়ের রাজা কয় এমন কেন হয়,
হতাশ হয়ে উড়ে চলি কৈলাস পর্বতমালায়
সিংহের ভয়ে লুকাইছে প্রাণী-গুহা তরুবনে।
দেখো সবে---
ভয়ে আমি ঝরসর ছুটে চলি অবিরত
অফিস আদালত আইন বিচার প্রার্থী যারা,
সাম্যনীতি ধূলোয় ধুসর কালিমায় পরে তারা
হায় ! ভাবছি আমি দেখে করি কি এখন?
দেখো সবে---
আতকে উঠে থামি, দেশটা কি ভাই স্বাধীন ?
কিসের লোভে অর্থ চুরি-কোনবা আঁশে,
অর্থ পাওয়ার লোভে ছুটে চলছি পথে
আর কতদিন বলুন এমন ছবি রবে ?
দেখো সবে---
স্বপ্নেরা বিভোর স্বপ্নের রাজ্যে
হতাশ হয়ে ভাবি হ্নদয় ভরে,
বিহঙ্গের কিচিরমিচির আওয়াজে মুখরিত ভোর
হঠাৎ আমি জেগে উঠি আযানের ডাকে ।।

ওমর ফারুক

বেদনার বালুচর
বেদনার বালুচরে বসে আছি একা
ভেঙে গেছে সব আশা,মিছে স্বপ্ন দেখা।
বালির বাঁধের মতো ভেঙে গেছে ঘর
মনের মানুষ নেই আজ সে হয়েছে পর।
এতো ভালেবেসেও তবু পেলাম না তার মন
আর ভাবি না কাউকে নিয়ে, হবে কেউ প্রিয়জন।
ভালোবেসে গেলাম শুধু ভালোবাসা পেলাম না
জীবনের কাছ থেকে পেলাম শুধুই ছলনা।
স্বপ্ন ছিল হাত ধরে ঘুরব বালুচরে
সব স্বপ্ন মিথ্যা হলো,জীবনটা যায় জ্বলে।
তাই তো বসে বালুচরে আঁকি হিজিবিজি
চোখ বুঝলে স্বপ্নের মাঝে দেখি তাকে রোজই।
ভালোবাসায় সুখ যেমন, কষ্টও তেমন
শুধু ভাবি জীবনটা আমার কেন হলো এমন।
আমার এই কষ্ট কাকে আমি বলি
কষ্ট পেয়ে এখন তাই একা একাই চলি।
ভালোবেসে না পাই তোমায় তবু ভালোবেসে যাব
ভালোবাসা সত্যি হলে একদিন ঠিকই তোমায় পাব।


চাইনা নষ্টদের মা হতে
হে নষ্টরা,
বুকের মাংস আর উরুর মাংসের
তফাৎ বোঝো নাকী গুলিয়ে ফেলো!
বারোয়ারী বাতাসে নারী রমণী হয়
শুধু তুমি রমণের জন্যে!
তবে কেনো হুল ফোঁটাও
অধরার জাল বুনে বুনে!
নারী বাজার দর একেবারেই কম?
কি মনে হয় তোমাদের?
কিশলয় দখিণা পবনে
নারী চুল উড়াবে
ইচ্ছে হলে দূর থেকে দেখো!
সৌন্দর্যের জন্যে নারী জন্ম!
নারীর অগগন স্বপ্নে কেনো হাতছানি দাও
বিশ্রী রূপে বিশ্রী ভাবে!
একটু ভেবো দেখো,
শুধু একটুর জন্যে কতো মুকুল
অকালেই ঝরে যায়!
সৌন্দর্য্যের ছ-টা দেখে
তাকে তোমরা পায়ে দলে
ভিন্ন ফুলে ভর করো!
তার পায়ে ই চৌহদ্দির শিকল পড়াও!
তার আব্রুর বিনাশ তোমার এগুয়ে সমাজ
তোমাদের অসুর পেশী শক্তি!
তাই একেশ্বরবাদী ঈশ্বরকে বলছি
নারীকে তুলতুল করেছে বাগান বিলাসে!
হে ঈশ্বর,
আমি, আমরা নষ্টদের উচ্ছিষ্ট হতে চাইনে!
বুকের ভেতর দগ্ধ নীল ট্রমা বাড়াতে চাইনে!
কর্কট আমি জীবনবেদী আঁধারের
সড়কের বিভাজন হতে চাইনে!
তারচেয়ে ভালো অন্ধ করে দাও আমায়!
নয়তো নিয়ে যাও তোমার জাহান্নামে
যেখানে পুড়বো কিন্তু উচ্ছিষ্ট হবোনা!
যাদের চোখ এখন নষ্টদের দখলে
তাদের জন্ম আমাদের জঠরে দিবেনা!
চাইনা আর কোন নষ্ট পুরুষের মা হতে!!!
শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম


মাতৃকোল
জন্ম আমার ধন্য মা'গো
জন্মে তোমার মাতৃকোলে।
কতরূপ,কতশোভা মিশে আছে,
মা'গো তোমার মাতৃক্রোড়ে ।
বিধাতার দেওয়া শ্রেষ্ঠ মানবী
তুমি যে আমার মা জননী।
পৃথিবীর সব সুখ আছে মা'গো
তোমার ও মুখের হাসির মাঝে।
দুঃখের দিনের সাথী মা'গো
সুুখের দিনের সাথী।
সুখ দুঃখ বুঝতে দাওনা মা'গো
আগলে রাখো আঁচলতলে।
ত্রিভুবণে তোমার মত মা'গো
আপন আর যে কেহ নাই।
হাজার জন্ম পেলেও মা'গো
তোমার ঋণ শোধ হবে না।
ঐ বিধাতারে বলি মা'গো
পূর্নজন্ম যদি আমি পায়।
তোমার কোলেই ফিরে আসি
যেন মা'গো এইটুকু শুধু চাই।

মো সেলিম হোসেন

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা।

খুন বা ধর্ষনের ঘটনায় ডাক্তারদের ময়না তদন্তে কখনো কখনো ভুল হয়. এজন্য বিচার করতে সমস্যা হয়। এমন বেশকিছু প্রতিবেদন গত কয়েক বছরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যেমন: এবছর (অক্টোবর ১৮, ২০২০) প্রকাশিত বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন ”ফরেনসিকের নেই জবাবদিহিতা, ঘুরে যায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন”।

এই প্রতিবেদনে, পুলিশ (পুলিশের বুর্যেই অব ইনভেষ্টিগেশন) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ভুলের কয়েকটি কারণের কথা বলেছে। এর মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে প্রভাবশালী কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেওয়া। বাকী গুলোর মধ্যে রয়েছে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের যথাযথ ফরেনসিক প্রশিক্ষণ না থাকা, ডোমদের ওপর ডাক্তারদের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত না করা, এবং ডাক্তারদের প্রণোদনার অভাব ইত্যাদি। সুত্র:
কয়েক বছর আগে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ময়নাতদন্ত ভুল হলে দায় কার?’ প্রতিবেদনটি অনুসারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘হত্যাকে আত্মহত্যা বলে ময়নাতদন্ত দেওয়া বা ময়নাতদন্তে অনেক তথ্য ঊহ্য রাখার বিষয়ে অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে।’ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক বলেছিলেন, ”ময়নাতদন্তে দক্ষতা ও প্রযুক্তির সংকটের কারণে অনেক সময় সঠিক তথ্য উঠে আসে না। তবে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও টাকার কাছে নতিস্বীকার করেও অনেক সময় মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়।”
এদুটো প্রতিবেদনে ময়না তদন্ত ভুলের বেশ কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনগুলোর অন্যতম বক্তব্য হচ্ছে ময়না তদন্তে ভুলের একটি কারণ হচ্ছে এক শ্রেনীর ডাক্তারদের সীমাবদ্ধতা বা প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া।
আমি সিলেটের রায়হান হত্যাকান্ডের ময়না রিপোর্ট্ প্রসঙ্গে আমার আগের একটি পোষ্টে এবিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। সেখানে আমি রায়হানের দ্বিতীয় ময়না তদন্তে আঘাতের চিহ্নগুলো এসেছে বলেছি। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কিছু পত্রিকায় এমনি ধারনা দেয়া হয়েছিল। যেমন

ফলে আমি পত্রিকা পড়ে ভুল করে ধরে নিয়েছিলাম যে, প্রথম ডাক্তারের প্রতিবেদনে এসব চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ সূত্র ধরে আমি ময়না তদন্তে যারা গাফলতি করে বা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেন জনস্বার্থে তাদের ফৌজদারী দায়দায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি আমার পোষ্টটিতে লিখেছিলাম। গাফলতি বা প্রভাবিত যে হয় (বা হওয়ার যে অভিযোগ আছে) তাতো প্রথম আলো আর বাংলা ট্রিবিউনে স্বযং মানবাধিকার কমিশন, আইন সালিশ কেন্দ্র আর পুলিশও বলেছে। কাজেই আগের পোষ্টটিতে আমার ভুল মূল বক্তব্যে না, ভুল উদাহরনে। তবু আমি এ ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দু:খিত। শুধুমাত্র উদাহরনগত ভুলের কারণে পোষ্টটি আমি ডিলিটও করেছি।

আরেকটা কথা। এ সমাজে ভালো ডাক্তার অনেক বেশী, কেউ কেউ থাকতে পারেন অন্যরকম। এটা তো সব পেশাতে হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আমি নিজে একশ্রেনীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আপত্তিকর কর্মকান্ড নিয়ে পত্রিকায় সমালোচনামূলক লেখা লিখেছি। কিন্তু অল্প কিছু শিক্ষক খারাপ কিছু করলে সবাই খারাপ হননা। তেমনি অল্প কিছু ডাক্তার খারাপ কিছু করলেও সবাই খারাপ হননা। ব্যক্তিজীবনে ডাক্তারদের মহানুভবতার অজস্র ঘটনা জানি, তাদের মহত্বের কথা লিখেছিও বিভিন্ন জায়গায়।

জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে
লেখালেখি'র একদম সময় পাচ্ছি না।
ইউনিভার্সিটি'তে যাচ্ছি। ক্লাস নিচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রী'দের থিসিস পড়ছি। পেপার রিভিউ করছি। ছাত্রদের থিসিস ডিফেন্সে থাকছি। এরপর বাসায় ফিরে খাচ্ছি, রোজকার মতো ব্যায়াম করছি, এরপর ঘুমিয়ে আবার ইউনিভার্সিটি! এই করেই কেটে যাচ্ছে।
এর মাঝেও ইনবক্স, আদারবক্স চেক করছি যতটুকু সময় পাওয়া যায়। আমার সৌভাগ্য'ই বলতে হবে- আপনারা অনেকেই আমাকে টেক্সট লিখে পাঠান। উত্তর দিতে না পারলেও আমি চেষ্টা করি সবার টেক্সট পড়ার।
তো, আজ মাস্টার্সের ছাত্রদের ডিফেন্স শেষ করে বাসায় ফেরার সময় "আদার বক্স চেক" করছিলাম। দেখি এক মেয়ে আমাকে টেক্সট করেছে। সেখানে যা লেখা আছে, সেটা আমি বরং তুলে দেই
Hey, your writing and your naughty like face attract me again and again but bad luck, I am not sure about your relationship status.
মানে দাঁড়াচ্ছে- আমার লেখা এবং আমার নটি লাইক ফেইস মেয়েটাকে বার বার আকর্ষণ করছে কিন্তু সে আমার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানে না!
মেয়েটার মেসেজ পড়ে আমি ইংরেজি ডিকশনারি ঘেঁটেছি "নটি" শব্দ'টার মানে কি, সেটা বুঝার জন্য।
এমন না, আমি জানি না এর সাধারণ মানে কি! স্রেফ ভালো ভাবে বুঝার জন্য। তো, ডিকশনারি'তে এই শব্দের মানে দেখে তো আমার চোখ কপালে উঠার জোগাড়!
এর মানে দাঁড়াচ্ছে - "খারাপ আচরণ" কিংবা "খারাপ ব্যাবহার" অথবা "অবাধ্য" টাইপ কিছু।
"নটি" শব্দের অর্থ জেনে বড্ড ইচ্ছে হচ্ছিলো, মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি- তুমি আসলে কোনটা বুঝিয়েছ?
আমার ঠিক জানা নেই, এই মেয়ে ঠিক কোন অর্থে বুঝিয়েছে। তবে সাধারণ অর্থে আমরা যা বুঝাই, হয়ত সেই অর্থেই বুঝিয়েছে।
কিন্তু বলতেই হচ্ছে, আমি এমন এক মানুষ- এক জীবনে মনে হয় না কারো সঙ্গে খুব একটা খারাপ আচরণ করেছি কিংবা খারাপ ব্যাবহার করেছি। এমনকি যেই ছেলেটা কিংবা মানুষটা আমার ভয়ানক ক্ষতি করেছে, মনে হয় না তাদের সঙ্গেও আমি জীবনে গিয়ে কোন দিন উঁচু গলায় কথা বলেছি কিংবা খারাপ আচরণ করেছি!
আমার যদি কোন শত্রুও থেকে থাকে, আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারব, সেও এসে বলতে পারবে না- আমি তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি।
আমি মানুষ'টাই বোধকরি এমন। এমনকি জীবনে কোন দিন কোন রকম ক্ষমতার প্রয়োগ করতে যাইনি এবং জীবনভর চেষ্টা করেছি আমার দ্বারা যেন মানুষের কোন ক্ষতি না নয়।
এইতো গতকাল'ই এমন এক পরিস্থিত'র সৃষ্টি হয়েছিলো। আমি স্রেফ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছি- আমার দ্বারা যাতে কোন দিন কারো ক্ষতি না হয়। সৃষ্টিকর্তা যেন আমাকে এমন পরিস্থিতে না ফেলে।
কারোন আমি জানি- ক্ষমতা মানুষকে কতোটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
এই লেখা অতি অবশ্য'ই কোন সরিয়াস বিষয়ের উপর না। স্রেফ মেয়েটার টেক্সট পেয়ে মনে হলো- মিনিট বিশেক সময় পাওয়া গিয়েছে, কিছু একটা লিখে ফেলি।
গতকাল ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরছি, হঠাৎ দেখি তুরস্ক থেকে আসা এক ছাত্র আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করছে
-কেমন আছো তুমি?
আমি তাকিয়ে দেখি তুরস্কের ছাত্রটা। মৃদু একটা হাসি দিয়ে বললাম
-এইতো, চলে যাচ্ছে। তুমি ভালো আছো তো?
-বেশ আছি।
এরপর ছেলেটা বলেছে
- আমার একচেঞ্জ প্রোগ্রাম শেষ হয়ে যাচ্ছে এই মাসে। আর কয়দিন পর চলে যাবো তুরস্কে। তোমাকে একটা কথা বলার খুব ইচ্ছে ছিল অনেক দিন ধরে। আজ বলেই দেই।
যেহেতু আমি শিক্ষক; ছেলেটা হয়ত সঙ্কোচ করছিল। আমি তাকে বললাম
-তুমি নিঃসঙ্কোচে বলে ফেলতে পারো। কথা বলার স্বাধীনতা জগতে সকল মানুষের আছে।
এইবার ছেলেটা হেসে যা বলেছে, তার অর্থ দাঁড়ায়
-আমিনুল, তোমার মাঝে কিছু একটা আছে। কেবল চৌম্বকের মতো আকর্ষণ করে। তুমি যখন রেগে-মেগে ক্লাসে একটু জোরে কথা বলার চেষ্টা করো, তখনও মনে হয়, কোথায় যেন একটা মায়া আছে। তোমাকে উপেক্ষা করা খুব কঠিন।
আমার ঠিক জানা নেই এই ছেলে কেন এই কথা বলেছে। আমি মৃদু হেসে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রাম ধরেছি।
খানিক আগে বাসায় ফিরেছি। ই-মেইল চেক করছিলাম। দেখি এক ভারতীয় ছাত্রী মেইল করেছে। সে তার মাস্টার্স থিসিস আমার সঙ্গে করতে চায়। আমি তাকে ফিরতি মেইল পাঠিয়ে জানতে চেয়েছি
-কেন তোমার মনে হচ্ছে তোমার থিসিস সুপারভাইজার আমি হতে পারি?
আমি আসলে আশা করছিলাম, মেয়টা নিশ্চয় লিখে পাঠাবে তার বিষয় আমার গবেষণার সাথে মিলে যায় কিংবা এই ধরনের সায়েন্টিফিক কিছু সে লিখে পাঠাবে। তো, এই মেয়ে লিখে পাঠিয়েছে
- তোমার মাঝে কিছু একটা আছে। স্রেফ আকর্ষণ করে। তাই ভাবলাম থিসিসের সময় টুকু কাজে লাগানো যাবে।
মেয়েটার মেইল পেয়ে এই লেখা লিখতে বসেছি। মিনিট দুয়েক আয়নায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে দেখেছি। এরপর প্রশ্ন করেছি- আকর্ষণের বিপরীত শব্দ'টা কি হবে? বিকর্ষণ নয় তো?
আচ্ছা, বিকর্ষণের মানে কি?
দূরে দূরে থাকা? অপছন্দ করা? নাকি দূরে থেকেও কাছে থাকা?
যাপিত জীবনে একটা বিষয় আমি খুব ভালো ভাবে শিখেছি- নিজেকে কখনো সহজলভ্য করা যাবে না। কোন পরিস্থিতেই না। নইলে মানুষজন সস্তা ভাবা শুরু করবে।
অন্য কোন সময় হলে ঠিক'ই চমৎকার করে কিছু একটা লিখে উত্তর পাঠিয়ে দিতাম। কিন্তু চলতি পথে যাপিত জীবনে দুটো জলজ্যান্ত মানুষকে চোখের সামনে অমানুষ হয়ে যেতে দেখেছি আমি। মানুষের প্রতি যে বিশ্বাস আমার ছিল, সেটা হয়ত আর অবশিষ্ট নেই।
তোমাদের কাউকে'ই হয়ত কোন দিন উত্তর দেয়া হবে না। তবে জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে। সেটা প্রকাশ করার অধিকারও সবার আছে। ভালোবাসা পাওয়া-না পাওয়া, সে তো ভাগ্যের হাতে। চেষ্টা করতে ক্ষতি কি। তবে যারা ভালোবাসি বলে এরপর সেটা স্বীকার করা তো অনেক দূরের ব্যাপার, ভয়ানক বিপদে ফেলে দিয়ে আর চিনতেও পারে না; তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
কারন, সবাই ভালবাসতে পারে না। ভালবাসতে জানতে হয়। সবাইকে ভালোবাসার ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি।

এ কেমন ডাকাত _ মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া

এ কেমন ডাকাত সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নি...

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget