October 2020
৬৪ জেলার ইতিহাস Aparupa Bengali Romantic Movie অন্যান্য অপরুপা অর্থিনীতির সংবাদ আইন-আদালত বিষয়ক পরামর্শ আকাঙ্খা আজিজুন নাহার আঁখির লেখা আঞ্চলিক সংবাদ আন্তর্জাতিক খবর আমার জীবন আমার স্বাস্থ আল্লামা মাহমুদুল হাসান ইচ্ছে ইতিহাস উন্নত স্বাস্থ কথা ঐতিহ্য কঙ্কাল কবিতা কয়েসাবা'র লেখা কিভাবে নিঃস্ব হয় শেয়ার মার্কেট খালিদ বিন আকরামের লেখা খেলা খেলাধুলা গ্রাম্য কবিতা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার খবর চাটুকার ছোট গল্প জাতীয় জাতীয় সংবাদ জিবাংলা আঞ্চলিক সংবাদ জীবনযাপন জেসমিন আকতারের লেখা জ্বীন-পরী ড: আসিফ নজরুল ডাক্তারদের মহানুভবতা তথ্য এবং প্রযুক্তির সংবাদ এবং পরামর্শ তথ্য বিভাগ তারেক আল মামুনের লেখা তেলবাজ দেশাত্ববোধক কবিতা দেশের কবিতা দৈনন্দিন জীবন ধর্ম বিষয়ক আলোচনা নারী নারীকে নিয়ে কবিতা পপি প্রামানিকের লেখা পরশ্রীকাতর পর্যটন পল্লী কবিতা পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি পেত্নী প্রবন্ধ প্রবাস প্রবাসী প্রবাসের খবর প্রেমের কবিতা প্রেমের গল্প ফটো গ্যালারি ফরিদা ইয়াসমীন নার্গিসের লেখা বাবুনগরী পেলেন ৩ ভোট বাংলা কবিতা বাংলা গান বাংলা রোমান্টিক মুভি বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান বাংলার প্রকৃতি বিচ্ছেদের কবিতা বিরহের কবিতা বিরহের গান বেফাকের সভাপতি ভালবাসার কবিতা ভালবাসার গল্প ভালোবাসার অধিকার ভালোবাসার কবিতা ভালোবাসার গল্প ভুতের গল্প ভৌতিক গল্প মতামত মমতা পালের লেখা ময়না তদন্ত মায়ের কবিতা মিউজিক মোঃ সেলিম হোসেনের লেখা মোসা: সুলতানার লেখা রমজান আলীর লেখা রূপসী বাংলা রেখা দাসের লেখা রৌদ্রময় শাখাওয়াত হোসেন যাযাবরের লেখা শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেমের লেখা শেয়ার মার্কেট শ্রেষ্ঠ নারী সহিদুলের কবিতা সহিদুলের লেখা সাহিত্য সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় সংবাদ সুমন সিকদারের লেখা সুমিতা দত্ত কানুনগো এর লেখা সোনার বাংলা স্বপ্নের সিঙ্গাপুর স্বাধীনতার কবিতা স্বাস্থ কথা স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা।

খুন বা ধর্ষনের ঘটনায় ডাক্তারদের ময়না তদন্তে কখনো কখনো ভুল হয়. এজন্য বিচার করতে সমস্যা হয়। এমন বেশকিছু প্রতিবেদন গত কয়েক বছরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যেমন: এবছর (অক্টোবর ১৮, ২০২০) প্রকাশিত বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন ”ফরেনসিকের নেই জবাবদিহিতা, ঘুরে যায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন”।

এই প্রতিবেদনে, পুলিশ (পুলিশের বুর্যেই অব ইনভেষ্টিগেশন) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ভুলের কয়েকটি কারণের কথা বলেছে। এর মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে প্রভাবশালী কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেওয়া। বাকী গুলোর মধ্যে রয়েছে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের যথাযথ ফরেনসিক প্রশিক্ষণ না থাকা, ডোমদের ওপর ডাক্তারদের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত না করা, এবং ডাক্তারদের প্রণোদনার অভাব ইত্যাদি। সুত্র:
কয়েক বছর আগে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ময়নাতদন্ত ভুল হলে দায় কার?’ প্রতিবেদনটি অনুসারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘হত্যাকে আত্মহত্যা বলে ময়নাতদন্ত দেওয়া বা ময়নাতদন্তে অনেক তথ্য ঊহ্য রাখার বিষয়ে অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে।’ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক বলেছিলেন, ”ময়নাতদন্তে দক্ষতা ও প্রযুক্তির সংকটের কারণে অনেক সময় সঠিক তথ্য উঠে আসে না। তবে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও টাকার কাছে নতিস্বীকার করেও অনেক সময় মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়।”
এদুটো প্রতিবেদনে ময়না তদন্ত ভুলের বেশ কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনগুলোর অন্যতম বক্তব্য হচ্ছে ময়না তদন্তে ভুলের একটি কারণ হচ্ছে এক শ্রেনীর ডাক্তারদের সীমাবদ্ধতা বা প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া।
আমি সিলেটের রায়হান হত্যাকান্ডের ময়না রিপোর্ট্ প্রসঙ্গে আমার আগের একটি পোষ্টে এবিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। সেখানে আমি রায়হানের দ্বিতীয় ময়না তদন্তে আঘাতের চিহ্নগুলো এসেছে বলেছি। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কিছু পত্রিকায় এমনি ধারনা দেয়া হয়েছিল। যেমন

ফলে আমি পত্রিকা পড়ে ভুল করে ধরে নিয়েছিলাম যে, প্রথম ডাক্তারের প্রতিবেদনে এসব চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ সূত্র ধরে আমি ময়না তদন্তে যারা গাফলতি করে বা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেন জনস্বার্থে তাদের ফৌজদারী দায়দায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি আমার পোষ্টটিতে লিখেছিলাম। গাফলতি বা প্রভাবিত যে হয় (বা হওয়ার যে অভিযোগ আছে) তাতো প্রথম আলো আর বাংলা ট্রিবিউনে স্বযং মানবাধিকার কমিশন, আইন সালিশ কেন্দ্র আর পুলিশও বলেছে। কাজেই আগের পোষ্টটিতে আমার ভুল মূল বক্তব্যে না, ভুল উদাহরনে। তবু আমি এ ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দু:খিত। শুধুমাত্র উদাহরনগত ভুলের কারণে পোষ্টটি আমি ডিলিটও করেছি।

আরেকটা কথা। এ সমাজে ভালো ডাক্তার অনেক বেশী, কেউ কেউ থাকতে পারেন অন্যরকম। এটা তো সব পেশাতে হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আমি নিজে একশ্রেনীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আপত্তিকর কর্মকান্ড নিয়ে পত্রিকায় সমালোচনামূলক লেখা লিখেছি। কিন্তু অল্প কিছু শিক্ষক খারাপ কিছু করলে সবাই খারাপ হননা। তেমনি অল্প কিছু ডাক্তার খারাপ কিছু করলেও সবাই খারাপ হননা। ব্যক্তিজীবনে ডাক্তারদের মহানুভবতার অজস্র ঘটনা জানি, তাদের মহত্বের কথা লিখেছিও বিভিন্ন জায়গায়।

জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে
লেখালেখি'র একদম সময় পাচ্ছি না।
ইউনিভার্সিটি'তে যাচ্ছি। ক্লাস নিচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রী'দের থিসিস পড়ছি। পেপার রিভিউ করছি। ছাত্রদের থিসিস ডিফেন্সে থাকছি। এরপর বাসায় ফিরে খাচ্ছি, রোজকার মতো ব্যায়াম করছি, এরপর ঘুমিয়ে আবার ইউনিভার্সিটি! এই করেই কেটে যাচ্ছে।
এর মাঝেও ইনবক্স, আদারবক্স চেক করছি যতটুকু সময় পাওয়া যায়। আমার সৌভাগ্য'ই বলতে হবে- আপনারা অনেকেই আমাকে টেক্সট লিখে পাঠান। উত্তর দিতে না পারলেও আমি চেষ্টা করি সবার টেক্সট পড়ার।
তো, আজ মাস্টার্সের ছাত্রদের ডিফেন্স শেষ করে বাসায় ফেরার সময় "আদার বক্স চেক" করছিলাম। দেখি এক মেয়ে আমাকে টেক্সট করেছে। সেখানে যা লেখা আছে, সেটা আমি বরং তুলে দেই
Hey, your writing and your naughty like face attract me again and again but bad luck, I am not sure about your relationship status.
মানে দাঁড়াচ্ছে- আমার লেখা এবং আমার নটি লাইক ফেইস মেয়েটাকে বার বার আকর্ষণ করছে কিন্তু সে আমার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানে না!
মেয়েটার মেসেজ পড়ে আমি ইংরেজি ডিকশনারি ঘেঁটেছি "নটি" শব্দ'টার মানে কি, সেটা বুঝার জন্য।
এমন না, আমি জানি না এর সাধারণ মানে কি! স্রেফ ভালো ভাবে বুঝার জন্য। তো, ডিকশনারি'তে এই শব্দের মানে দেখে তো আমার চোখ কপালে উঠার জোগাড়!
এর মানে দাঁড়াচ্ছে - "খারাপ আচরণ" কিংবা "খারাপ ব্যাবহার" অথবা "অবাধ্য" টাইপ কিছু।
"নটি" শব্দের অর্থ জেনে বড্ড ইচ্ছে হচ্ছিলো, মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি- তুমি আসলে কোনটা বুঝিয়েছ?
আমার ঠিক জানা নেই, এই মেয়ে ঠিক কোন অর্থে বুঝিয়েছে। তবে সাধারণ অর্থে আমরা যা বুঝাই, হয়ত সেই অর্থেই বুঝিয়েছে।
কিন্তু বলতেই হচ্ছে, আমি এমন এক মানুষ- এক জীবনে মনে হয় না কারো সঙ্গে খুব একটা খারাপ আচরণ করেছি কিংবা খারাপ ব্যাবহার করেছি। এমনকি যেই ছেলেটা কিংবা মানুষটা আমার ভয়ানক ক্ষতি করেছে, মনে হয় না তাদের সঙ্গেও আমি জীবনে গিয়ে কোন দিন উঁচু গলায় কথা বলেছি কিংবা খারাপ আচরণ করেছি!
আমার যদি কোন শত্রুও থেকে থাকে, আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারব, সেও এসে বলতে পারবে না- আমি তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি।
আমি মানুষ'টাই বোধকরি এমন। এমনকি জীবনে কোন দিন কোন রকম ক্ষমতার প্রয়োগ করতে যাইনি এবং জীবনভর চেষ্টা করেছি আমার দ্বারা যেন মানুষের কোন ক্ষতি না নয়।
এইতো গতকাল'ই এমন এক পরিস্থিত'র সৃষ্টি হয়েছিলো। আমি স্রেফ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছি- আমার দ্বারা যাতে কোন দিন কারো ক্ষতি না হয়। সৃষ্টিকর্তা যেন আমাকে এমন পরিস্থিতে না ফেলে।
কারোন আমি জানি- ক্ষমতা মানুষকে কতোটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
এই লেখা অতি অবশ্য'ই কোন সরিয়াস বিষয়ের উপর না। স্রেফ মেয়েটার টেক্সট পেয়ে মনে হলো- মিনিট বিশেক সময় পাওয়া গিয়েছে, কিছু একটা লিখে ফেলি।
গতকাল ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরছি, হঠাৎ দেখি তুরস্ক থেকে আসা এক ছাত্র আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করছে
-কেমন আছো তুমি?
আমি তাকিয়ে দেখি তুরস্কের ছাত্রটা। মৃদু একটা হাসি দিয়ে বললাম
-এইতো, চলে যাচ্ছে। তুমি ভালো আছো তো?
-বেশ আছি।
এরপর ছেলেটা বলেছে
- আমার একচেঞ্জ প্রোগ্রাম শেষ হয়ে যাচ্ছে এই মাসে। আর কয়দিন পর চলে যাবো তুরস্কে। তোমাকে একটা কথা বলার খুব ইচ্ছে ছিল অনেক দিন ধরে। আজ বলেই দেই।
যেহেতু আমি শিক্ষক; ছেলেটা হয়ত সঙ্কোচ করছিল। আমি তাকে বললাম
-তুমি নিঃসঙ্কোচে বলে ফেলতে পারো। কথা বলার স্বাধীনতা জগতে সকল মানুষের আছে।
এইবার ছেলেটা হেসে যা বলেছে, তার অর্থ দাঁড়ায়
-আমিনুল, তোমার মাঝে কিছু একটা আছে। কেবল চৌম্বকের মতো আকর্ষণ করে। তুমি যখন রেগে-মেগে ক্লাসে একটু জোরে কথা বলার চেষ্টা করো, তখনও মনে হয়, কোথায় যেন একটা মায়া আছে। তোমাকে উপেক্ষা করা খুব কঠিন।
আমার ঠিক জানা নেই এই ছেলে কেন এই কথা বলেছে। আমি মৃদু হেসে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রাম ধরেছি।
খানিক আগে বাসায় ফিরেছি। ই-মেইল চেক করছিলাম। দেখি এক ভারতীয় ছাত্রী মেইল করেছে। সে তার মাস্টার্স থিসিস আমার সঙ্গে করতে চায়। আমি তাকে ফিরতি মেইল পাঠিয়ে জানতে চেয়েছি
-কেন তোমার মনে হচ্ছে তোমার থিসিস সুপারভাইজার আমি হতে পারি?
আমি আসলে আশা করছিলাম, মেয়টা নিশ্চয় লিখে পাঠাবে তার বিষয় আমার গবেষণার সাথে মিলে যায় কিংবা এই ধরনের সায়েন্টিফিক কিছু সে লিখে পাঠাবে। তো, এই মেয়ে লিখে পাঠিয়েছে
- তোমার মাঝে কিছু একটা আছে। স্রেফ আকর্ষণ করে। তাই ভাবলাম থিসিসের সময় টুকু কাজে লাগানো যাবে।
মেয়েটার মেইল পেয়ে এই লেখা লিখতে বসেছি। মিনিট দুয়েক আয়নায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে দেখেছি। এরপর প্রশ্ন করেছি- আকর্ষণের বিপরীত শব্দ'টা কি হবে? বিকর্ষণ নয় তো?
আচ্ছা, বিকর্ষণের মানে কি?
দূরে দূরে থাকা? অপছন্দ করা? নাকি দূরে থেকেও কাছে থাকা?
যাপিত জীবনে একটা বিষয় আমি খুব ভালো ভাবে শিখেছি- নিজেকে কখনো সহজলভ্য করা যাবে না। কোন পরিস্থিতেই না। নইলে মানুষজন সস্তা ভাবা শুরু করবে।
অন্য কোন সময় হলে ঠিক'ই চমৎকার করে কিছু একটা লিখে উত্তর পাঠিয়ে দিতাম। কিন্তু চলতি পথে যাপিত জীবনে দুটো জলজ্যান্ত মানুষকে চোখের সামনে অমানুষ হয়ে যেতে দেখেছি আমি। মানুষের প্রতি যে বিশ্বাস আমার ছিল, সেটা হয়ত আর অবশিষ্ট নেই।
তোমাদের কাউকে'ই হয়ত কোন দিন উত্তর দেয়া হবে না। তবে জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে। সেটা প্রকাশ করার অধিকারও সবার আছে। ভালোবাসা পাওয়া-না পাওয়া, সে তো ভাগ্যের হাতে। চেষ্টা করতে ক্ষতি কি। তবে যারা ভালোবাসি বলে এরপর সেটা স্বীকার করা তো অনেক দূরের ব্যাপার, ভয়ানক বিপদে ফেলে দিয়ে আর চিনতেও পারে না; তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
কারন, সবাই ভালবাসতে পারে না। ভালবাসতে জানতে হয়। সবাইকে ভালোবাসার ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি।

কত কি হতে চেয়ে
কত কিছুইতো হতে চেয়ে,ত্রিশটি বসন্ত গেলো চলে!
হাজারো স্বপ্নের জালবুঁনে,খুঁজে চলেছি আমি কিছু হব?
কখনও ভেবেছি আমি আকাশের নীল রংয়ের ভেলায়,
কোনো মুক্ত পাখির মত ইচ্ছে ডালায় ভর করে,
সুমধুর কণ্ঠে স্নিগ্ধ সকালে নানান সুরে গাইব গান।
কখনো ইচ্ছে হয় আমি ভরা বাগানের লালটুকটুক গোলাপ ফুল হব,
মনে হয় যেন বিখ্যাত প্রেমিক যুগলের হাতের পরশে সিক্ত হবে ।
বনলতা সেন,মমতাজ,রাণী ভিক্টোরিয়া মোনালিসা বা মেরিঞ্জনার,
মেঘবরণ রেশমীকালো কেশের খোপায় শোভা পাবো আমি।
নইতো বা আমি শঙ্খচিল বা ডাহুকপাখির বেশে নদীর জলের,
ছলাত ছলাত ঢৈউয়ে শব্দে মনের আনন্দে পাখা উড়িয়ে,
নদীর একপাশ হতে অন্য পাশে সাঁতার কাটব ইচ্ছা মতন।
আবার কখনো ইচ্ছে হয় আমি নদীনালা খালবিলের বুকে,
কাশফুল বা শালুক ফুল হব যা দেখে ছোটো ছোটো শিশুরা,
সাদা পালক উড়িয়ে বলবে আমি স্বাধীন বাংলার সাদা মনের মানুষ,
আবার কিশোর কিশোরী হাতে শোভা পাবো আমি শালুক ফুলের বেশে,
নইতো বা মনের মাধুরী মিশিয়ে কিশোর কিশোরীর গলায় মালার বেশে,
ছুটে চলব আমি দুরন্তপণা কেনো খামখেয়ালীর বেশে।
এতো কিছু হতে চেয়ে ছুটে চলেছি আমি শুধু,
আসলে আমি কি হব,ভেবে পায় না উত্তর কিছু?
ত্রিশটি বসন্ত ভেবেই চলেছি হয়ত বা হব আমি কিছু!
শেষমেশ হতে চেয়েছি, না হয় আমি ভালো প্রেমিক হব আমি!
নানা রং এ, নানা ঢং এ লেখব ভালো- বাসার প্রেমের ছন্দ!
অবশেষে হাতে নিলাম কলম তুলে লেখব-প্রেয়সীকে নিয়ে ভালোবাসার ছন্দ!
প্রেম নিবেদন হবে কি আমার লেখার কবিতার ছন্দে?
তবু আমি লেখে চলেছি, শুধু আমার প্রেয়সীর প্রেমিক হব বলে!
ভালো হবে কি না মন্দ হবে! আমি জানি না উত্তর কিছু?
প্রেয়সীর মনে প্রেম জাগলে, হয়ত আমি হব কিছু?
কি হতে চেয়ে কি হব,সেই উত্তরের পেছনে ছুটে চলেছি শুধু!
আসলে আমি কি হব, এই ভাবনাটা এখন প্রিয়সী আমার শুধু--
যদি লেখায় প্রেয়সীর হৃদয় পায় তবে হয়ত হবে আমার কিছু?
তাহলে হয়ত বাকীটা জীবন প্রেয়সীকে নিয়ে লেখব ভালোবাসার ছন্দ।
অতপর আমি কি হব, ভবিষৎই বলে দেবে আমায় সব উত্তরটুকু ?
শাখাওয়াত হোসেন যাযাবর



গল্প ছলে বুনো (৮৮)
শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম
(বুনো আজ শুনাবো রৌদ্রময়ের কথা)

রৌদ্রময়,
প্রনয়ের ইতিবৃত্ত টেনে নিলে !
আমি দ্বিতীয় বার সংজ্ঞা হারালাম !
বেওয়ারিশ লাশের মতো কলার ভেলায়
দুর......... বহুদুর আলো বিহীন সায়রের
নোনা জলে ফেলে দিলে ........ আবার এলে !!!
রৌদ্রময়,
মনে পড়ে, তোমার নীলকণ্ঠে
আমি বারবনিতা ছিলাম !
চুঁপিসারে নিকষ আঁধারে আসতে .........
রাতের প্রহরী হতেম আমি !
আদিম উৎসবের পাশাপাশি চলতো
কথার খেলা.........!
হায়নার চোখে যখন ঘুম নামতো
বাদুর যখন উল্টো হয়ে গাছে ঝুলতো
তখন তুমি চলে যেতে............!
এখানেই শেষ হলেই বুঝি ভালো হতো !
............... নাহ আরও যে বাকি............
রৌদ্রময়,
মাঝে মাঝে দুজন চলে যেতাম
শহরের কোলাহল ছেড়ে.........
যেখানে বাণিজ্যিক হাওয়া বদলে যেতো !
শির শির আবেশে উদাস গলায় গাইতে
অতুল প্রসাদ , রাধারমণের গান !
অপূর্ব জীবন দর্শন তোমার......
আমি দৈন্যতায় ভরা... পিয়াসী রাতের বারবনিতা !
রৌদ্রময়,
রোদ ছিলো বর্ণছটায়
গোধূলির মেঘ মুক্ত দখিনা বাতাস ।
শিফনে আমি অপরূপা............
সন্ধ্যার মুরতি তখন শেষ ক্ষণে......
আড়ম্ভর রাতের কেবল শুরু.........
তুমি হারাতে দেহে আর আমি তখন
কৈশোরীয়া প্রেমে............
তমাল... হ্যাঁ তমাল
আমার কৈশোরীয়া প্রেম............!
আহা, মঁটরের আল পথ বেয়ে
চলে যেতাম দূর বহুদুর......!
গাঢ় রাত্রিতে হতেম অবুঝ প্রেমের নিশীগন্ধা !
অকারণে তার রক্তের অসংখ্য আমিত্ব কে হত্যা করেছি !
একদিন সেই ই আমাকে বেছে দিলো............!!!
কতো রক্তাক্ত হয়েছি......
কতো রক্ত ঝরেছে.........
রৌদ্রময়,
তোমাতে এখন আমার রুচি নেই......!
বিকল্প খুঁজছি.........!!
এ শহর আমাকে আলট্রা মর্ডাণ বানিয়েছে ।
পতিতের অভাব নেই.........
আমার নামি দামি পতিত
নিত্য নতুনের স্বাদ খুঁজে.........
ভেবেছি, আমি ও বদলে নেবো!!
জন সমুদ্রের গর্জন............
........................রাত্রির কোলাহল..................
..................... বিশেষ কোন ভাবনার মৌনতা............
.....................শেষ সেঁজুতির বংশীবাদক...............
কিংবা............
হৃদয় ধ্বনির তানপুরার দহন কাল !
হল্লা করে সুখ ডেকে নেবো......
নেবো দু চোখ ভরে নব পতিতের
অঙ্গরাজ্য............
বিজনের দহন কাব্য......
............... কিছু পঁচে যাওয়া সময়ের উল্লাস!
বুনো,
আমি মগ্ন ছড়িয়েছি অকারণ!
হ্যাজাকের আলোয় শূণ্যের বিলাসিতায়
অসংখ্য আমিত্ব হত্যা করেছি বার বার!
আলিপ্ত বাগানে তুমি সুন্দর নাচিয়ে
প্রেমের বিলাস ছড়াও হেমন্তের গাঙচিলের
দোটানায়।
হে হেম, বুনো সঙ্গমে এসো
পালিত স্বপ্নের ওমে
যেথা একটা তুমি
আরেকটা আমি!!!

 

কিভাবে নিঃস্ব হয় শেয়ার মার্কেট?

আমার ১ কোটি টাকা আছে,আমি ব্যাংক থেকে আরো ১ কোটি টাকা লোন নিলাম,

''টোটাল ২ কোটি টাকা দিয়ে একটা বিস্কুট কোম্পানি বানালাম,এর নাম দিলাম'' "ABC Limited" .

এবার একটা মার্চেন্ট ব্যাংকে গেলাম,সোনালী ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংক,মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশনকে বললাম আমার বিস্কুট কোম্পানি ABC Limited কে স্টক এক্সচেঞ্জ এ লিস্টেড করতে চাই,

কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জ এর নিয়ম হচ্ছে মিনিমাম ৪০ কোটি টাকার নিচের কোন পেইড-আপ ক্যাপিটাল এর কোম্পানিকে লিস্টেড করা যায় না,কিন্তু আমার কোম্পানি তো মাত্র ২ কোটি টাকার কোম্পানি!!

মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন বললেন, "সমস্যা নাই ভাই, আপনার কোম্পানি আমরা লিস্টেড করে দিবো, কিন্তু শর্ত হচ্ছে আপনি আমাকে ৮ কোটি টাকা দিবেন, আমি কষ্ট করবো, আমার পারিশ্রমিক হিসাবে আপনি আমাকে আলাদা ২ কোটি টাকা দিবেন,এইটা আবার আমার ব্যাঙ্ক যেন না জানে, টোটাল ১০ কোটি টাকা".

আমি জবাব দিলাম," আমি কিভাবে ১০ কোটি টাকা দিবো !!"

মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন বললেন, "আপনার নিজের পকেট থেকে এক টাকাও দিতে হবে না,আমরা মার্কেট থেকে আপনাকে টাকা তুলে দিবো, আপনি ওখান থেকে আমাকে ১০ কোটি টাকা দিবেন, আপনি আপনার ৫০ পার্সেন্ট শেয়ার বিক্রি করবেন আর বাকি ৫০ পার্সেন্ট শেয়ার নিজের কাছে রেখে দিবেন".

আমি ওনার শর্তে রাজি হলাম,

এবার ওই মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন অডিট ফার্ম এ গেলো, গিয়ে বললো," এই ABC Limited স্টক এক্সচেঞ্জ এ লিস্টেড করবো".

অডিট ফার্ম বললো," কি করতে হবে শুধু হুকুম করেন".

হেড অফ অপারেশন বললেন, "বেশি কিছু না, কেবল এই ২ কোটি টাকার কোম্পানিকে ৪০ কোটি টাকা ভ্যালুয়েশন করে দেখাতে হবে".

অডিট ফার্ম বললো," কোনো সমস্যা নাই, তবে বস এবার কিন্তু একটু বাড়িয়ে দিতে হবে, স্টাফদের স্যালারি দিয়ে মাস শেষে লোকসান হচ্ছে, এবার ২ কোটি টাকার নিচে পারবো না ". শেষ পর্যন্ত নেগোসিয়েশন করে ১ কোটি টাকায় রাজি হলো ২ জন.

এবার হেড অফ অপারেশন সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান এর পিওনকে ফোন দিল ( পিওন ভেবে অর্ডিনারি পিওন ভাবার সুযোগ নাই, এই পিওন বাকি ১০০ টা পিওনের মতো অর্ডিনারি পিওন না , এই পিওন অনেক পাওয়ারফুল). পিওনকে বল্লো নতুন একটা বিস্কুট কোম্পানি মার্কেটে লিস্টেড করতে হবে, কাজ টা করে দিতে হবে, পিওন বললো, " স্যার কিন্তু এখন ২.২০ কোটি টাকার নিচে কোনো কাজ পাশ করে না, এর নিচে কাজ হবে না, আর জিনিষপাতির দাম বাড়ছে, বউ বাচ্চা নিয়ে না খাওয়ার অবস্থা, মেয়েটার ভার্সিটির বেতন বাকি পড়ছে আমার দিক একটু দেইখেন."

হেড অফ অপারেশন বললো, "ওকে ডিল ফাইনাল কাজ করে দেন"

হেড অফ অপারেশন এবার স্টক এক্সচেঞ্জ এর টপ লেভেল এ যোগাযোগ করলো, বলল, " এই বিস্কুট কোম্পানি অপ্প্রভ করে দিতে হবে".

স্টক এক্সচেঞ্জ বললো, " ঠিক আছে কিন্তু ২ কোটি টাকা নিব, এর নিচে হবে না"

২ জনে রাজি হলো, ডিল ফাইনাল

এবার ২ কোটি টাকার বিস্কুট কোম্পানিকে ৪০ কোটি টাকা দেখিয়ে আইপিওর জন্য এপলাই করা হলো, ৫০ পার্সেন্ট শেয়ার মানে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মার্কেট এ ছাড়া হলো, প্রিমিয়াম প্রাইস ৫ টাকা যোগ করে, সো ৩০ কোটি টাকা.

মানে ১ কোটি টাকার অরিজিনাল শেয়ার বিক্রি করে মার্কেট থেকে তোলা হলো ৩০ কোটি টাকা.

এবার আমি আমার কথা মতো ১০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংক এর মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশনকে বুঝিয়ে দিলাম, আর বাকি টাকা আমার, মানে আমার পকেটে ঢুকলো ২০ কোটি টাকা.

হেড অফ অপারেশন স্টক এক্সচেঞ্জকে ২ কোটি টাকা দিলো, আর স্টক এক্সচেঞ্জ এ যারা আছে তারা এই ২ কোটি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিলো, অডিট ফার্মকে দিলো আরো ১ কোটি টাকা,আর বাকি টাকা সোনালী ব্যাংক এর কমিশন হিসাবে নিলো, নিজের জন্য বাকি টাকা.

আর ২.২০ কোটি টাকা দিলো সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর চেয়ারম্যান এর পিওনকে, সাথে পিওনের মেয়ের ভার্সিটির বকেয়া বেতন বাবদ দিলে আরো ১০ লক্ষ টাকা

পিওন তার স্যারকে বলল, " স্যার দুনিয়ায় এখন আর মানুষ নাই, সব অমানুষ হয়ে গেছে, আমাকে বলছিলো ২ কোটি টাকা দিবে কিন্তু ২০ লক্ষ টাকা কম দিছে, আমারে বলছিলো কিছু টাকা দিবে, একটা টাকাও দিলো না স্যার". সে তার স্যারকে ১.৮০ কোটি টাকা দিলো, স্যার পিওনকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজের কাছে ১ কোটি টাকা রেখে বাকি টাকা কয়েকটা খামে ভরে তার কলিগদেরকে পাঠিয়ে দিলো

এইটুকু পর্যন্ত অনিয়ম আর কারসাজির প্রথম স্টেজ শেষ,

এবার দ্বিতীয় স্টেজ,

ABC Limited মার্কেট এ লিস্টেড হলো আর আইপিও প্রাইস হলো ১৫ টাকা.

ট্রেড শুরু হলো, এক একটা ১৫ টাকার শেয়ার পাবলিক ৫০ টাকা করে বাই করলো,

আমার তো মাথা খারাপ, আমার বাকি অরিজিনাল ১ কোটি টাকার শেয়ার এর মার্কেট ভ্যালু ১০০ কোটি টাকা !!! আর অলরেডি তো ২০ কোটি টাকা পকেটে ঢুকাইছি, এবার আমি আমার বাকি ৫০ পার্সেন্ট শেয়ার ও বিক্রি করা শুরু করলাম, কিন্তু এতো শেয়ার বিক্রি করবো, পাবলিক তো খাবে না, তাই একাউন্টেন্টকে বললাম, " লাস্ট ৩ মাসের আর্নিং দেখাও ২.৪০ কোটি টাকা লাভ".

একাউন্টেন্ট বললো, " স্যার, সারা বছর কোম্পানি লাভ করে ১.২০ কোটি টাকা, আর ৩ মাসে কিভাবে ২.৪০ কোটি টাকা লাভ দেখাবো?".

আমি জবাব দিলাম, " ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে কি নকল করে পাশ করছো? ৩ মাসের লাভ দেখাবা ২.৪০ কোটি টাকা, এরপরের ৯ মাসের আর্নিং এ ১.২০ কোটি টাকা লস দেখিয়ে এডজাস্ট করে দিবা,সোজা হিসাব."

মাত্র ১ পিস্ শেয়ার মানে ১০ টাকার একটা শেয়ার কেবল নিজের কাছে রাখলাম, আর বাকি সব শেয়ার বিক্রি করে দিলাম, নিজের পকেট এ ঢুকলাম আরো ১০০ কোটি.

পাব্লিকের থেকে খাওয়ার আর কিছু নাই,

এবার কোম্পানি ফোকাস করা শুরু করলাম,

ABC Limited প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রফিট করছে.

আমি কোম্পানির এম.ডি. হিসাবে নিজের স্যালারী/রেমুনারেশন ধরলাম ৪০ লক্ষ টাকা, বৌ কে বানালাম চেয়ারম্যান, বউ এর স্যালারী/রেমুনারেশন ধরলাম ৫০ লক্ষ টাকা, ছেলে মেয়ে ২ টা আছে, ২ টা কে আরো ২ টা পোস্ট দিয়ে ওদের স্যালারী/রেমুনারেশন ধরলাম ১০ লক্ষ্য টাকা, টোটাল ১ কোটি টাকা আমার ফ্যামিলি স্যালারী/রেমুনারেশন বাবদই নেয়া শুরু করলাম, ABC বিস্কুট কোম্পানির আরো ২০ লক্ষ টাকা লাভ বাকি আছে, এইটা কিভাবে নেয়া যায়!!

কোম্পানির জন্য কষ্ট করতেছি কোম্পানি আমাকে বাড়ি ভাড়া দিবে না? নিজের বাড়িতে থাকি তো কি হইসে!! অন্য কোথাও থাকলে তো ভাড়া দিতে হতো, কোম্পানি থেকে বছরে ১০ লক্ষ টাকা বাড়ি ভাড়া বাবদ চার্জ করলাম, অফিস এ কষ্ট করে আসতেছি আমার ড্রাইভার কত কষ্ট করে গাড়ি চালায় ওর একটা বেতন আছে না? ড্রাইভার এর বেতন ৫ লক্ষ টাকা, গাড়ির তেল খরচ আরো হাবি জাবি খরচ কে দিবে!! ঐটাও আরো ৫ লক্ষ্য টাকা, বাসায় থাকলেই হবে!! খাওয়া দাওয়া করতে হবে না!! বাজার খরচ, কাজের বুয়ার বেতন গ্যাস বিল পানির বিল, ইলেকট্রিসিটি বিল কে দিবে!! ঐটাও আরো ৫ লক্ষ্য টাকা

এলাকার ছেলেরা ফুটবল টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করছে, আমি প্রধান অতিথি, ওখানে টাকা চাঁদা দিতে হবে না!! শুধু টাকা কামালে হবে!! সমাজের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে না? সোশ্যাল ওয়ার্ক বাবদ আরো ৫ লক্ষ টাকা.

বউ বল্ল গাড়ি পুরানো হয়ে গেছে, এই গাড়িতে হবেনা নিউ মডেলের গাড়ি লাগবে, গাড়ি কিনে দিবো বৌ কে, কোম্পানির ব্যাংক এর রিজার্ভ এর টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে দিলাম আর বাকি টাকা কোম্পানির নামে লোন, বিল করলাম কোম্পানির স্টাফদের ট্রান্সপোর্টেশন বাবদ বরাদ্দ, বাসার ফার্নিচার গুলা পুরানো হয়ে গেছে, নতুন ফার্নিচার দরকার, কোম্পানি থেকে টাকা নিয়ে বাসার ফার্নিচার কিনলাম, বিল করলাম অফিস এর সৌন্দর্য বর্ধন বাবদ বরাদ্দ, এমনকি নিজের ব্যবহার করা আন্ডার-গার্মেন্ট এর টাকা টাও পর্যন্ত কোম্পানি থেকে বিল করে নেই,

আমাদের স্যালারি নেয়ার পর খরচ দাঁড়ালো আরো ৮০ লক্ষ টাকা,

ABC Limited বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রফিট করছে,

কিন্তু খরচ ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা মানে কোম্পানির উল্টো লোকসান ৬০ লক্ষ টাকা,

দ্বিতীয় স্টেজ শেষ,

এবার তৃতীয় স্টেজ,

স্টক এক্সচেঞ্জকে কেন মাসে মাসে ফি দিবো!! ধুর ফি দিবো না, যা পারে করুক, ৬ মাস পর স্টক এক্সচেঞ্জ ABC Limited কে ডিলিস্টেড করে দিলো, এবার আমি দেখলাম আগের মতো আর বিস্কুট ও বিক্রি হয় না, প্রফিট খুব কম, এক কাজ করি ২ কোটি টাকার কোম্পানি এইটা দেখি বিক্রি করতে পারি কিনা ১.৫ কোটি টাকায়,

ABC Limited কে বিক্রি করতে যাবো, কোম্পানির ম্যানেজার বললো," স্যার আপনার কাছে তো কোনো শেয়ার নাই, সব তো আপনি পাব্লিককেই বিক্রি করে দিছেন, তাহলে আপনি কোম্পানি বিক্রি করবেন কিভাবে? আর ব্যাংক ও তো আপনার কাছে ১ কোটি টাকা পায়" .

আমি জবাব দিলাম, " আরে ধুর এইটা বাংলাদেশ, ওই ১ কোটি টাকা ব্যাংককে আজীবন বাকির খাতায় লিখে রাখতে বল".

"আর পাবলিক !!পাবলিক কোর্ট এ দৌড়াবে, রায় আসতে আসতে ওদের নাতি-পুতিও দুনিয়া থেকে চলে যাবে, বুঝ নাই ব্যাপারটা??

Source: FB

 


 

প্রবাসী মানেই টাকার খনি
আপনার কাছে টাকা থাকুক আর নাইবা থাকুক, দেশ, দেশে থাকা আপনার পরিবার, আত্বিয়স্বজন, ঘরের স্ত্রী, পাড়া প্রতিবেশি, সবাই কিন্তু জানে আপনি টাকার খনি। কারন সবার মনে একটা ধারনা যে, প্রবাসী মানেই টাকার খনি।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস কোন মা, বাবা যদি স্বচক্ষে দেখতো তার আদরের সন্তান, প্রবাসের মাটিতে কত কষ্ট আর যন্ত্রনা সয়ে, কি খেয়ে, কত অমানবিক পরিশ্রম করে, প্রতিটা ডলার আয় করে। তাহলে তারা না খেয়ে থাকলেও হয়তো, তার আদরের সন্তানকে আর একটি মুহুর্তও প্রবাসে থাকতে দিতনা।
সুখের পাখি চোখের সামনে উড়তে দেখলেও, প্রবাসীদের তা ছুয়ে দেখা হয়না কখনই, জীবন নিয়ে হাজার স্বপ্নের ছবি আকলেও, তাতে রং মাখা হয়না কখনই, তাইতো প্রবাসীর জীবন আর স্বপ্নগুলো সাদা'কালোই থেকে যায় যোগ যোগ ধরে।
হাতে গুনা দু'একজনের জীবনী ভিন্ন হলেও প্রায় সব প্রবাসীর গল্প'টাই সেম।
সবার জীবনে সৌরভ ছড়িয়ে দেওয়া প্রবাসীর, নিজের জীবন'টাই কাগজের ফুলের মত, শুভাস আর মধু হীন। চাহিদা আর ইচ্ছে পূরনের বাধ্য'বাধকতার কাছে, হেড়ে যায় সঞ্চয় নামের সোনার হড়িণ।
এটা নেই, সেটা নেই, এটা লাগবে, সেটা লাগবে, এটা দাও, সেটা দাও।
অনেকেতো ভাবে, প্রবাসে টাকা বাতাসে উড়ে, প্রবাসীরা শুধু ধরে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয়।
আর তাইতো, প্রবাসীর রক্তক্ষয় করা টাকায় গড়া বাড়িতে, নিজের মাথা গুজার ঠাই হয়না। প্রবাসীর টাকায় দেশে থাকা অনেকেই গাড়ি বাড়ি করলেও, দেশে ফিরে সেই প্রবাসীকেই ধার দেনা আর লোন করে চলতে হয়। কারন সবাই ভাবে, প্রবাসী মানেই টাকার খনি, দেশে ফেরার সময় ব্যাগ ভর্তি করে টাকা নিয়েই সে দেশে ফিরবে।
চাহিদার অতিরিক্ত কখনোই দিতে নেই, তবে হাতটা বড় হয়ে যায়, আর একবার হাত বড় হয়ে গেলে, পরে সামলানো মুশকিল। তাই যে, যাই করেন, একটু ভেবে চিন্তে করবেন, পরিবারের চাহিদা'টা নাগালের মধ্যে রাখবেন। দেশে গিয়ে চলার মত, হাতটা শক্ত রাখুন।
সুমন সিকদার,
সিঙ্গাপুর প্রবাসী।


হায়রে ফেসবুক

এই বুক, সেই বুক,কোন বুক... আহা সেতো মোর ফেসবুক!

জানিস ফেসবুক বন্ধুরা এত্তো এত্তো ভালো। কতোজন আমার খোঁজ রাখে। জন্মদিনে শুধু গিফট আর গিফট। এতো গিফট যে কোথায় রাখি! কতো ফ্লাইং কিস যে ভেসে ভেসে আসে! চোখ বুঝে আমি শুধু ধরে নিই!  কিরে, কি করে পাঠায়? আরে পাঠানো লাগে নাকি সব তো ফেসবুকে দেয়,ওই যে, দাঁড়া দাঁড়া তোকে ছবি দেখাচ্ছি বলেই আমাকে ছবি দেখায়!        

ওরে ছি,  তাই নাকি! মলাম দেখি,আমি মনে করেছি সত্যি সত্যি গিফট!

এই তুই ফেসবুকের কি বুঝবি, তুই তো গেঁয়ো।এতো পড়াশোনা করেও বাটন ফোন ব্যবহার করিস। জানিস, কতোজন এই বয়সে বলে, এই তোমার কি বিয়ে হয়েছে! তুমি কোন ক্লাসে পড়ো! আমার যা জোস লাগে!

এই বড় আপা দারুণ জোসের ডোজ খেলেন।

তখনও ফেসবুকের সাথে আমার পরিচয় হয়নি। শুধু শুনেছি যারা বেশী স্মার্ট তারা ফেসবুক চালায়। আরে ভাই, ড্রাইভ করতে জানিনা, ড্রাইভার হয়ে বিনাশর্তে জীবন দেবো এতো বোকা আমি নই। তাই ফেসবুক খোলা হয়নি। বাটন ফোনে আবছা ছবি তুলি। ছবি তোলা মানে কখন কোন মুডে বসে আছি, তাই আর কি। ক্যামেরা ঘরে অভাব নেই,কিন্তু মুডের ব্যাপার বলে কথা অবশেষে ফেসবুক একাউন্ট খুলবো বলে খুলে ফেললাম। আহা, মধুর ফেসবুক। যে রিকু পাঠাই তাকে এড করি। ঠোঙ্গাওয়ালা, ঝালমুড়ি ওয়ালা থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত। নিত্য নতুন সুন্দর ছবি আপলোড করা আর সেই সাথে কাব্যিক ক্যাপশনে ভরপুর। আর শত শত কমেন্ট লাইক। লাইকের বন্যায় আমি সারাক্ষন লেপটপে বসি। তখনো এন্ড্রয়েডের কবলে পরিনি। কমেন্টের উত্তর লিখতে লিখতে আমার জান খানা বের হয়ে যায়! তবুও লিখতে হয় অতি সাধের ফেসবুক বলে কথা!

আমার এক নামী দামী দুলাভাই আমাকে বুঝাতে বুঝাতে সক্ষম হলো, ফ্রেন্ড নির্বাচন কি করে করে। ওমা এক সময় আবিষ্কার করলাম ফেসবুকের সবার সাথে আমি মহা সমোরোহে প্রেম করছি আর করছি। জন্মদিনের ছবি আকা গোলাপ পেয়েই আমি বেহুশ। টাইম লাইনেআপনার বন্ধুত্বে আমি ভীষণ খুশি!’ ও মোর আল্লাহ গো, এতো খুশি মুই কই রাখমু! খালি, আপনি বিশ্ব সুন্দরী!  বিয়ে হয়েছে নাকি ইউনোভারসিটিতে! এস এস সি সাল কতো! কতো জনরে ইন্টারভিউ দিতে দিতে আমি এখন ফেবুর প্রতিষ্টিতো অবস্থানে! এটা একদিনে হয়নি বুঝলেন!

আসলে কি জানেন, আমার মাথায় ঘিলু কম। ফেবুর কসম করে বলছি।আপনারা ভুল বুঝবেন না।

যাক বলেছিলাম আপুর কথা, আপু ফেসবুক বিষয়ে বিশেষ অজ্ঞ হয়ে স্বামী সন্তান রেখে পড়লেন এক তরতাজা নওজোয়ানের প্রেমে। সেই ছেলের আস্কারা পেয়ে মাস্কারা পরে দুলাভাইয়ের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু হলো! এদিকে প্রেম গভীর থেকে গভীরতর।

দুজন দুজনার ছবি দেখেছে। আপুর আইডি নিটোল ছিলো সে ছেলের আইডিতে যা যা ছিলো সব ভুয়া। একদিন এই ফেসবুক নিয়ে আপা দুলাভাইয়ের ঝগড়া। দুলাভাই বললো ফেসবুক চালানো যাবেনা। আপু শুধু ফেসবুক ছাড়লো না ধুলাভাইকে জনমের শিক্ষা দিতে সেই ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে ধরা খেলো। ছেলে দেখতে সুন্দর কিন্তু বাকি সব মিথ্যে! আপু কয়েক দিন থেকে বাসায় ফিরে এসে দেখে দুলাভাই লাল শাড়ি মোড়ানো নতুন বউ নিয়ে এসেছে। এটাও নাকি দুলাভাইয়ের ফেসবুক রাঙ্গানো বান্ধবী! কাকে দোষ দেবো, আপা কে নাকি দুলাভাইকে? নাকি সর্ব প্রেমের সমাধি টেনে সব ব্লক করা আমাকে? নাকি হালের ফেসবুককে! জানিনা! জানিনা! জানিনা!

শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা।

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা। খুন বা ধর্ষনের ঘটনায় ডাক্তারদের ময়না তদন্তে কখনো কখনো ভুল হয়. এজন্য বিচ...

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget