জীবন নামের রেল গাড়িটা পায়না খুঁজে স্টেশন

 

জীবন নামের রেল গাড়িটা পায়না খুঁজে স্টেশন
তখন খুব বেশী ছোট নয় আমি। তবুও কেনো জানি নতুন বউ কারো বাড়ি এলে দাওয়াত দিক আর না দিক দেখতে চলে যেতাম। অন্যরাও আসতো বউ দেখতে আমাদের বাড়িতে। কতো বউ যে জীবনে দেখেছি। নিজেও বউ হয়েছি। আমাকেও গাড়ি থেকে নামার পর শত মানুষ দেখতে এসেছে। আমাকে দেখতে এসেছে দুটো কারণে। এক, আমার বাড়ী দু -বিভাগ পরের জেলা। আরেক কারণ আমি পুলিশের বউ। না জানি কতো সুন্দরী!
তাই এক সপ্তাহ জুড়ে মানুষের ঢল নেমেছিলো। আমিও পটের বিবি সেজে আরামে বসে রায়েছি। কিন্তু সারাদিন একবারও স্বামী বেচেরার মুখ দেখতে পেতাম না। নাইবা পেলাম তাতে ক্ষতি কি? কিন্তু সালাম করতে করতে কোমড় ভাঙ্গা অবস্থা আমার। এখনো শাশুড়ী মাকে আর বড় ভাবীকে পায়ে হাত দিয়ে ই সালাম করি আসা যাওয়ার সময়।
যাক যে কারণে জীবন গাড়ি স্টেশন খুঁজে পায়না। আমি নাইবা পেলাম স্টেশান।আজ আমার কথা থাক।
জানু মোল্লা (ছদ্মনাম) সম্পর্কে ভাই হয়। তার বিয়ে শুনেছি মেয়ে নাকি অপুর্ব সুন্দরী। জানু মোল্লা ছোট কারবারি। মা নেই, তো যার যার মতো সংসার। বউ এসে রান্না করে খাবে। কপাল বেশী ভালো হলে নাকি এমন ভাগ্য হয়। আসলেই বউ চাঁদ কপালী কারণ স্বামী বেচেরা শান্ত আর ভালো মানুষ।
বিয়ে করে নিয়ে এলো সংসার পাতলো অপুর্ব সুন্দরীর সাথে। যখন জানুমোল্লা বিয়ে করে তার ছোট ভাইটি খুব ছোট। দেখতে দেখতে জানুর চার বাচ্চা হয়। লতায় পাতায় ডালপালা ভরতে থাকে। ছোট ভাইটিকে বিদেশ পাঠায়। চিঠির মাধ্যমে ভাবীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন হয়। তারপর মোবাইল ফোন বের হলে প্রেমের সাগরে জোয়ারে উথলে ওঠে।
ছোট ভাইটি দেশে এসে সগর্বে ভাবীকে কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করে এক ই বাড়িতে আসে। সবাইকে জানায় সে এখন আমার বউ যে বাচ্চা তার পেটে সেটাও আমার। পাশাপাশি দু রুম। বউ রান্না করে দু স্বামীকে নিয়ে ভাত খায় শুধু ঘুমানোর সময় ছোট ভাইয়ের কাছে থাকে। জানিনা বড় ভাই জানু মোল্লা তালাক আধৌ দিয়েছে কিনা।
জানু মোল্লা প্রথম প্রথম কাঁদতো চিৎকার করে। এখন আর কাঁদে কিনা জানিনা। তবে মনে পড়লে আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়। এটা কিভাবে সম্ভব। বিয়ে করে দূরে কোথাও চলে গেলে ই পারতো কিন্তু এই কষ্ট বুকে ক-দিন বয়ে বেড়াবে জানুমোল্লা আমার জানা নেই!
নারী সুন্দরী, নর সুন্দর তাই বলে এতো বেরহমি কাজ। প্রেম কে না করে, দ্বিতীয় বিয়ে করেনি এমন ইতিহাস নেই এটা মিছে। নারী পুরুষের মোহ থাকবে এটা দেবর হোক আর পর পুরুষ হোক কিন্তু এক ছাদের নীচে এই রকম সকলের অবস্থান এগুলো স্বপ্নে ভাবা যায়না কল্পনায় আনা যায়না। মানুষের মনুষ্যত্ব আর কতো নীচে নেমে গেলে এমন কাজ করতে পারে। এ গুলোকে সমাজবিজ্ঞরা কেনো ঠাঁই দিয়ে রেখেছে এটা ভেবে আমি শংকিত! মমত্ববোধ ওঠে গেছে নাকী দুনিয়া থেকে!
শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম

Post a Comment

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা।

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা। খুন বা ধর্ষনের ঘটনায় ডাক্তারদের ময়না তদন্তে কখনো কখনো ভুল হয়. এজন্য বিচ...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget