এক রাত্রিতে _ ফরিদা ইয়াসমীন নার্গিস


এক রাত্রিতে

বই পড়ার ভীষণ রকমের নেশা প্রীতমের। সব কাজের মধ্যে সে সময় বের করে নিয়েছে পছন্দের কাজটির জন্য। যদিও তার সদ্য পাওয়া চাকরিটা বই পড়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তবে সবসময়ই তাকে আকর্ষণ করেছে আউটবই। প্রতিদিনই দরকারি লেখাপড়া দ্রুত সেরে সে মন দিয়েছে পছন্দের বইগুলো পড়ায়। সেই ছোট্ট বয়স থেকে এটা শুরু হয়ে আজ অবধি চলছে। আজ সারাদিন অনেক ধকল গেল,  কলেজে অনুষ্ঠান ছিল। ফিরতে তাই সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। বাড়ি ফিরে আজ বেশ ক্লান্ত লাগছে।তবুও বই পড়া তার চাইই খেয়েদেয়ে বিছানায় শুয়েই পড়তে লাগল সে।

এভাবে কতক্ষণ কেটেছে কে জানে? হঠাৎ করেই নাম ধরে ডাকতে ডাকতে রুমে প্রবেশ করল সৈকত। সৈকত ওর ছোটবেলার বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই এত মাখামাখি ছিল যে সবাই বলত মানিকজোড়। স্কুলে, খেলার মাঠে সবখানেই দুজন একসাথে সবসময়। 

বলল, চলতো..

কোথায়? 

আরে চলই না, গেলেই দেখতে পাবি। ঘরে বসে থেকে ভাললাগে?

দুজন হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে গেল। বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। যেতে যেতে বেশ কিছুদূর গিয়ে একটা বিশাল মাঠ। 

প্রীতম জানতে চাইলো, বলতো কোথায় যাচ্ছি আমরা? 

সৈকত নিরুত্তর।

সৈকতের এমন আচরণ প্রীতমের কাছে একদমই ভাল লাগল না। প্রাণপ্রিয় বন্ধুকে কিছু বলতেও কিছু বলতেও পারছে না।

ওরা মাঠের মাঝ বরাবর হাটছে। পথ যেন আর শেষ হতে চায় না। চারদিকটা গাঢ় অন্ধকার। এবার প্রীতমের বেশ ভয় লাগতে শুরু করল। সৈকতটাও কেমন যেন অন্যরকম আচরণ করছে। কোন কথাই বলছে না। কয়েকবার গন্তব্যের কথা জানতে চাইলে একবার বেশ ধমকের সুরেই বলল,,,

আগে তো এত প্রশ্ন করতি না?

অগত্যা ওর সাথে হাটা ছাড়া আর কোন উপায় খুঁজে পেল না প্রীতম। আরও কিছুক্ষণ হাটার পরে দূরে একটা ক্ষীণ আলো দেখতে পেলে একটু হলেও স্বস্তি পেল ও। আরও কিছুটা এগিয়ে গেলে মনে হল কয়েকজন লোক আগুন জ্বালিয়ে কিছু একটা করছে। 

বেশ জোরে পা চলছিল দুজনের তাই বেশ দ্রুত লোকগুলোর কাছাকাছি চলে এলো। তারা নিজেদের মধ্যে কেমন এক অদ্ভুত ভাষায় কথা বলছিল।     

প্রীতমের একদম ভাল লাগছিল না। হঠাৎ লক্ষ্য করল ওদের চোখগুলো কেমন অদ্ভুতভাবে জ্বলজ্বল করছে।দুহাতে বড়বড় লোম আর ধারালো নখ। দেখে মুহূর্তে প্রীতমের সমস্ত শরীর হিম হয়ে গেল।

বলল, চল সৈকত, আমার ভাল লাগছে না। ভয় ভয় লাগছে।

কেন রে ভয় কিসের? আমি তো সাথে আছি। 

তবুও চল, আমি আর এখানে থাকতে চাই না। দেখছিস না লোকগুলো কেমন অদ্ভুত। ওদের হাতগুলো লোমশ, নখগুলো ধারালো, চোখ কেমন জ্বলজ্বল করছে। আমার ভীষণ ভয় লাগছে। 

ওহ্ এই কথা? 

তাতে কি? ওসব তো আমারও আছে। 

সৈকতের দিকে তাকালো প্রীতম, এতক্ষণ কি তাহলে খেয়াল করেনি ও? সমস্ত শরীরে ওর বিদ্যুৎ খেলে গেল যেন। অচেনা ঐ লোকগুলোর মত সৈকতেরও হাত লোমশ, নখ ধারালো, চোখের চাহনিও অবিকল এক। কি ভয়ঙ্করভাবে হাসছে সৈকত। সঙ্গে সঙ্গে অচেনা লোকগুলো ও একইভাবে শব্দ করে হেসে উঠল। প্রাণপণে ছুটতে লাগল প্রীতম। পিছন থেকে ভেসে আসছে ওদের হাসির শব্দ।    শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়েও সামনে এগুতে পারছে না। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে। তবু ও ছুটছে আর বলছে, বাঁচাও... বাঁচাও...।

মায়ের ধাক্কায় যেন দেহে প্রাণ ফিরে পেল। সমস্ত শরীর ঘেমে একাকার। 

কি হয়েছে প্রীতম? এইতো তো আমি। ভয় পেয়েছিস নাকি?স্বপ্ন দেখছিলি বুঝি?

মা, সৈকত...

বলিসকি! সৈকত তো দুইবছর হল মারা গেছে।

প্রীতমের মনে পড়ে গেল সবকিছু। চমকে দিয়ে ও মজা পেতো সারাজীবন। আজ একেবারে পিলেই চমকে দিল! সৈকতের দেয়া শেষ উপহারের বইটার দিকে তাকালো। এটাই পড়ছিল আজ। 

বইটার প্রথম পাতায় গোটা গোটা অক্ষরে সৈকতের হাতের লেখা,,, 

"আমায় কোনদিন ভুলিস নারে দোস্ত! "

ফরিদা ইয়াসমীন নার্গিস 


Post a Comment

প্রবাসী মানেই টাকার খনি

  প্রবাসী মানেই টাকার খনি আপনার কাছে টাকা থাকুক আর নাইবা থাকুক, দেশ, দেশে থাকা আপনার পরিবার, আত্বিয়স্বজন, ঘরের স্ত্রী, পাড়া প্রতিবেশি, সবাই ...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget