জলজ্যান্ত পেত্নী _ জেসমিন আকতারের ভুতের গল্প


জলজ্যান্ত পেত্নী
জেসমিন আকতার
ঘুট ঘুটে অন্ধকার। চারিদিকে দু'একটা জোনাকির আলো ছাড়া কিছু দেখা যাচ্ছে না। গ্রামের রাস্তাঘাট তেমন ভালো নয়। বর যাত্রী নদীর ঘাটে পৌঁছুতে পৌঁছুতে রাত প্রায় ১১ টা। গলাভর্তি গহনায় নতুন বউ রুপা, বর,বর যাত্রী সবাই আছে। দু'একজন করে নৌকায় উঠছে। এমন সময় পাশের গাছ থেকে হঠাৎ এক রমনীর লাফ দেয়ার দৃশ্য। লাফিয়ে গাছ থেকে
মাটিতে ঠাঁয় দাড়িয়ে পরলো।
রমনী???
রমনীই বটে!
সাদা শাড়ি পরা, লম্বা লম্বা চুল,প্রায় পায়ের পাতা পর্যন্ত। ইয়া বড় বড় দাত,চোখ দুটো জলন্ত আগ্নেয়গিরি।যেনো আগুন ঝড়বে এখন।
হি হি হি হি হি
-- তোরা কে বাছারা?
এ কথা শুনতেই অনেকের চোখ গেলো ঐ রমনীটার ওপর।
না না পেত্নীটার ওপর।
সাথে সাথেই এক এক জনের করুন অবস্থা। কেউ বাবারে, মা রে বলে চিৎকার, কেউ নদীর পানিতে হাবুডুবু, কেউ মুর্ছা, আবার কেউ বিড় বিড় করে কি যেনো বলছে থতো মতো কন্ঠে।
সবার মধ্যে একজন একটু সাহসি,সে বললো-
কে তুমি? কি চাও?
হু হু হু
-- আমি তোদের ঐ নতুন বর নয়নের সাথে যেতে চাই বাছা। এই কালে তো আমার কেউ নাই। সেই ৭০০ শ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছি। তারপর থেকে এই বট গাছেই থাকি। কতদিন একা থাকা যায় বল?
শুনে সবার অবস্থা আরো খারাপ। তরিঘড়ি করে খুব কষ্টে বর যাত্রী সবাই নৌকায় উঠে, নৌকা ছাড়ার হুকুম দিলো। বরটা একটু বেশিই ভীতু প্রকৃতির। সারা রাস্থা দুচোঁখ বন্ধ করে রেখেছে। হাত পা কাঁপছে। নদীর ওপারেই বরের বাড়ি।
নৌকা ঘাটে ভীড়তেই সবাই তরিঘড়ি করে বাড়ির দিকে রওনা দিলো। বাড়িতে সবাই নতুন বউ দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। বাড়িতে পৌঁছুতেই সবাই বউ দেখতে এগিয়ে এলো। একজন বললো,"
--বাপরে, বউয়ের গলায় কত গহনা,বউয়ের বাবা বুঝি খুব ধনি?
বরের বোন উত্তর দিলো,
-- কই আর ধনি,,সোনা নাকি ইমিটেশন কে জানে?
তৎক্ষনাৎ বরের বাবা উত্তর দিলো,
--না না, খাঁটি সোনা,শেকরা কে দিয়ে পরীক্ষা করে নিয়েছি,একদম খাঁটি, পাক্কা পনেরো ভরী। যাইহোক, রাত হয়েছে সবাই খেয়েদেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পরো।
বরের মুখে কোনো কথা নেই। সে ঐ পেত্নীর চিন্তায় চিন্তিত।
রাতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাবে সেই মানোসিকতা নেই। সেই কালো লম্বা চুল, বড় বড় দাত, ইয়া বড় জলন্ত চোখ বারবার মনে পরছে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পরেছে এমন সময় বাড়ির ভেতরে কিসের যেনো শব্দ হলো। নয়রের মা বাহিরে এসে দেখলো কাঁঠাল গাছের একটা ডাল ভেঙ্গে পরে আছে। তরিঘরি করে ঘর থেকে বের হয়ে আসতেই পিছলে পরে চিৎপটাং,,,
--ওরে মা রে বাবা রে,,,,,,,,,,
ততক্ষনে কাঁঠাল গাছ থেকে পেত্নীটা নয়নের জানালার পাশে দাড়িয়েছে।
----
🧛‍♀️🧟‍♀️
হি হি হি কই রে??????
ডাক টা শুনেই নয়নের চোখ ছানাবড়া। ভয়ে ভয়ে বলে,,
--কে তুমি? কি চাও?
----
🧟‍♀️🧟‍♀️
তোর কাছে থাকতে চাই রে!!
-- কি বলো!! তা কি করে হয়! আমি মানুষ, আর তুম,,,,
---আমি কি বল?
--- তুমি পেত্নী। কি চাও, তাই বলো,যা চাও তাই দিবো।তবু পিছু ছারো।
কথা বলতে বলতেই নয়ন আবার মুর্ছা যায়। নতুন বউ কি করবে বোঝতে না পেরে বাহিরে গিয়ে বিষয়টা জানায়। কিন্তু বাহিরেও তো বিপত্তি,শ্বশুর মশাইয়ের কোমড়ের হাড়টা বোধ হয় ভেঙ্গেই গেছে।
রাতটা কোনো ভাবে কেটে গেলো। সারাটাদিনও অনেক ঝাড় ফু য়ে কেটে গেলো।
সন্ধ্যা নামছে আর নয়নের মনে ভয় জমছে।
অনেক রাত। আবার জানালায় শব্দ। প্রচন্ড আওয়াজ। কান ঝালাপালা। জানালা খুলে দেখে সেই পেত্নী। সাদা শাড়িতে,কালো চুল মেলে দাড়িয়ে আছে পেয়ারা তলায়। নয়নের দিকে চেয়ে বললো
--
🧛‍♀️🧛‍♀️🧛‍♀️
হি হি হি, তোর ঘার মটকাবো, তোর রক্ত মাংস খাবো,,,হি হি হি।
এবার খানিকটা সাহস জুগিয়ে বললো,
---তুমি কি চাও? চলে যাও,,
---আমি যাবো না,তোর কাছে থাকতে চাই,
-- তা হয় না,আমি মানুষ। আর তুমি??
--- তাতে কি! আমি অনেক টাকা -করি দেবো,সোনা- দানা দেবো।
--- নিবো না, তুমি যাও।মানুষের সাথে পেত্নীর সম্পর্ক হয় না,তুমি যাও।
---- মানুষ?????? হি হি হি হি।
ও তোরা তো মানুষ। কেমন মানুষ তোরা??
মানুষ বলেই পনের জন্য কন্যা পক্ষকে চাপ দিতে পারিস, ভরী ভরী গহনার জন্য কন্যার বাবাকে অন্যের দারে হাত পাততে, ভিক্ষায় নামতে বাধ্য করিস। একটি বারও ভাবিস না নিরিহ কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা এতো টাকা, গহনা কই পাবে?
--- তুমি সব গহনা টাকা পয়সা নিয়ে যাও। কিছু চাই না। তবুও আমার পিছু ছারো।
এই বলে বউয়ের গহনা ও বাবার কাছ থেকে পনের সব টাকা এনে দিলো পেত্নীটার হাতে।
পেত্নিটা সবকিছু নিয় চলে গেলো। হারিয়ে গেলো আঁধারে। তারপরথেকে ঐ পেত্নীকে আর দেখতে পাওয়া যায় নি।।
(বিঃ দ্রঃ পেত্নী রুপী রমনীটা ছিলো আসলে রুপার ছোট বোন রীতু। কন্যা দায়গ্রস্থ পিতার বোবা কান্না সে দেখেছে। দেখেছে বসত বাড়ি বন্দকী রেখে বিবাহ যোগ্যা কন্যার গহনা ও পনের টাকা যোগাতে। নয়নের বাবার এসব চাহিদা মেটাতে সর্বশান্ত হতে হয়েছে তার বাবাকে। সবকিছু তার দূর্দশাগ্রস্থ পিতাকে ফিরিয়ে দিতে এবং এ সমাজ থেকে পনপ্রথা দুর করতে তার এই প্রচেষ্ঠা। প্রত্যেকটা সমাজে এমন একজন করে পেত্নী থাকা দরকার আছে।)

Post a Comment

এ কেমন ডাকাত _ মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া

এ কেমন ডাকাত সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নি...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget