মাথাহীন সাপ _ কয়েসাবা'র লেখা ভৌতিক গল্প

মাথাহীন সাপ
কয়েসাবা'র লেখা
সত্যিকারের ভৌতিক গল্প

মানুষ রাতে ঘুমালে স্বপ্নে অনেক কিছু দেখে। আমি ঘুমালেই শেষ। তবে স্বপ্ন দেখিনা বললে ভুল হবে। বেশিরভাগই সাপ, ব্যাঙ, বিড়াল, কচ্ছপ এগেুলোই বেশি দেখি। এইতো ২০১১ সালের কথা। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে হবে। দিন তারিখ স্পষ্ট মনে নেই। একদিন রাতে স্বপ্নে দেখি, একটি সাপ আমাকে অ্যাটাক করেছে। স্বপ্নে আমি দৌড়াচ্ছি, আর সাপ আমার পিছু পিছু ছুটছে। এক পর্যায়ে আমি দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে যাই। সাপ আমার গায়ে উঠে পড়ে। আমি চিৎকার করতে থাকি। যখন চিৎকার করছিলাম, তখন সাপটা আমার মুখের ভেতরে প্রবেশ করে। আমি সাপকে এমন একটা কামড় দিলাম যে, সাপের মাথা আমার মুখে আর মাথাহীন সাপের দেহ মাটিতে পড়ে লাফালাফি করতে থাকে। ঠিক এমন সময় ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে খুব বেশি বমি করতে থাকি। প্রচন্ড ঘামছিলাম, ভয়ও লাগছিল। অনেক কষ্টে রাত পোহাল। সকাল বেলা পরিবারের কয়েকজনের সাথে শেয়ার করলাম। আমরা কথা শুনে অনেকে হাসছিলেন। কিন্তু রাতে এই দুঃস্বপ্নের কথা ভেবে আমার খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ হয়ে গেল। কিছুই খেতে পারি না। মাথাহীন সাপের দৃশ্য ভেসে উঠে। দুপুরে আমার দুই ফ্রেন্ডদের সাথে শেয়ার করি। তারাও হাসতে থাকে।

আমি পরে আর কারো সাথে শেয়ার করতে গেলাম না। সারাদিন ভারী খাবার খাই নি। পরের দিন বাড়ির পাশে রেল লাইন দিয়ে হাটছি। হঠাৎ দূর থেকে দেখি রেল লাইনের উপরে একটি সাপ লাফালাফি করছে। মনে মনে ভাবলাম, যেখানে যাই সাপ আর সাপ। ঘুমালে সাপ, জেগে থাকলে সাপ। সাপ! সাপ! সাপ! কি আর করব। একটা কঞ্চি হাতে নিলাম। সাপটিকে মেরে ফেলব বলে। ভয়ও লাগছিল। কাছে গিয়ে দেখি সাপটির মাথা নেই। অর্থাৎ সাপের মাথা কাটা। আমার এই দৃশ্য দেখতেই আগের দিনের রাতের স্বপ্নের দৃশ্য মনে হল।

আমি ভিন্ন পথে চলে গেলাম। আমার এক ফ্রেন্ডকে নিয়ে আসলাম। যে আমার স্বপ্নের কথা শুনে অনেক হেসেছিল। ওকে বললাম, আমি রাতে যে সাপটিকে কামড় দিতে দেখেছি সেই সাপটি রেল লাইনের উপর লাফালাফি খাচ্ছে। বন্ধুটি আমার কথা শুনে আমাকে পাগল, ভুতে ধরছে আরো অনেক কিছু বলতে লাগল। যাহোক অনেক কিছু বলার পর আমার সাথে আসল সাপটি দেখতে। দুজনই সাপটি দেখতে আসলাম। সাপটির কাছাকাছি চলে আসলাম। মাথাহীন সাপটিকে দেখে আমার ঐ বন্ধুটি তখন বলছিল, সাপটিকে ট্রেন কেটেছে। এটা আমিও ভাবছিলাম। কিন্তু আমরা অনেক খোঁজাখুজির পরও কোথায়ও সাপের মাথা বা রেল লাইনে উপরে কোথাও সাপটিকে কাটার লেশমাত্র চিহ্ন পেলাম। লাইনের উপরে দুজনেই হাটছিলাম। আর রেল লাইনে রক্তের দাগ খুঁজছিলাম।

হঠাৎ দেখি রেল লাইনে আমি একা হাটতেছি। আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধুটি ভয় পেয়ে আমাকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে গেল। পালিয়ে গিয়ে অনেককে বলতে লাগল আমাকে নাকি ভুতে ধরেছে। যাহোক, কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থল থেকে আমিও চলে আসলাম। আর মনে মনে ভাবলাম, রাতে আমি সাপকে কামড় দেওয়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম সেটা হয়তো ভুল। আসলে হয়তো সাপটিকে ট্রেন কেটেছে। এই চিন্তা মাথায় রেখে কিছু খাওয়ার চেষ্টা করছিলাম।

ঐদিন একই গ্রামে আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। ফিরতে রাত হয়ে গেল। ঐ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত আনুমানিক ১১টা বা সাড়ে ১১টা হয়তো হবে। তাড়াতাড়ি নিজ বাড়ি ফিরার জন্য মেইন রাস্তা দিয়ে না গিয়ে একটি ক্ষেতের জমির আইল দিয়ে যাওয়ার জন্য রুয়ানা দিলাম। ক্ষেতে ধানক্ষেত আছে। ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে নিজের বাড়ি যেত ১২ মিনিট লাগবে। আর মেইন রাস্তা দিয়ে গেলে ২৫-৩০ মিনিট তো লাগবেই। তাড়াতাড়ি বাড়ির ফিরার জন্য ধানক্ষেতের পথ ধরে যাত্রা শুরু করলাম। ধানগাছ আমার মাথার সমান প্রায়। প্রায় পরিচিত রাস্তা হলেও বেশ কিছুদিন ধরে যাওয়া আসা নেই বললেই চলে। রাত এতো বেশি অন্ধকার না। সাথে টর্চও নেই।

সাথে ছিল ১১১০ মডেলের একটি নোকিয়া ফোন। যেটার টর্চ লাইট নেই। মোবাইলে ডিসপ্লের আলোতেই যাচ্ছিলাম। ধান ক্ষেতের মাঝে ২-৩ মিনিট হাটার পর মোবাইলে চার্জ শেষ হওয়ায় অফ হয়ে যায়। মোবাইল পকেটে রেখে হাটছিলাম। ৫-৭ মিনিট হাটার পর আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। দেখি আমার সামনে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত বেশ লম্বা একজন মানুষ দাড়িয়ে আছে। আমি থমকে গেলাম। মানুষটি এত লম্বাকার যে, স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে মানুষটির চেহারা দেখা যাচ্ছিল না। চেহারা দেখতে উপরের দিকে থাকালাম।

আমি প্রায় ভীত হয়ে পড়েছিলাম। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই মানুষটিরও মাথা নেই। মাথা দেখতে পেলাম না। সাথে সাথে আমার আগের দিন স্বপ্নে দেখা সাপের মাথায় কামড় ও সকালে রেল লাইনের উপরে মাথা কাটা সাপের কথা মনে পড়ল। ভাবলাম, অনেক রাত হয়েছে। সময়ক্ষেপন না করে চলে যাই। আসলে আমি বিষয়টি বুঝতেই পারছিলাম। নিজেকে অনেক অসহায় লাগছিল। মানুষটির পাশ কেটে চলে যেতে চাইলে হাল্কা একটা ধাক্কা অনুভব করলাম। এই ধাক্কাতেই আমি ক্ষেতে কাদার মধ্যে পড়ে গেলাম।

একদিকে যেমন ভয় হচ্ছিল, তেমনি আবার রাগও হচ্ছিল। কাদার মধ্যে পড়ে থাকা অবস্থায় একটি গাছের ডাল (সম্ভবত বাশের কঞ্চি) হাতে লাগল। আমি সেটা দিয়েই ভুতুড়ে মানুষটিকে আঘাত করলাম। আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। লোকটি আমার আঘাত করা কঞ্চিতে হাত দিয়ে ধরে ফেলল। যেন আমি বড়শিতে ধরা মাছের মত দোল খাচ্ছি। এতটুকুই মনে আছে। পরে আর কিছু বলতে পারব না। হয়তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখি আমি কাদার মধ্যে পড়ে আছি। উঠে দাড়ালাম। ২-৩ মিনিট কাদার মধ্যে বসেই রইলাম।

আর কিছু দেখতে পেলাম না। আমি বাড়ি চলে গেলাম। যখন বাড়ি ফিরলাম তখন রাত ১ টা বাজে। বাড়িতে গিয়ে কাদামাখা জামাকাপড় বদলি করে হাত-পা-গা মুছেই ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন সকালে আমার মা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, জামাগুলোর মধ্যে এতো কাদা ছিল কেন? আমি সবকিছু খুলে বললাম। কি যে বলব! পরের দিন থেকেই আমাকে বেশকতগুলো তাবিজ পরে কোনটা হাতে, কোনটা কোমরে, কোনটা গলায় পরে থাকতে হলো অনেক দিন। বইয়ের মলাটগুলো খুজলে বা ওয়ার্ডড্রফের ড্রয়ারগুলো খুজলে দুএকটি তাবিজ এখনো হয়তো পাওয়া যাবে।

আসলে এটা গল্প না। আমার জীবনে সত্যিকারের একটি ভৌতিক ঘটনা। ‘ছন্দ কবিতা কাব্য’গ্রুপটি ভৌতিক গল্প লেখার সুযোগ দিল, তাই শেয়ার করলাম।

Post a Comment

এ কেমন ডাকাত _ মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া

এ কেমন ডাকাত সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নি...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget