হায়রে ফেসবুক - শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম


হায়রে ফেসবুক

এই বুক, সেই বুক,কোন বুক... আহা সেতো মোর ফেসবুক!

জানিস ফেসবুক বন্ধুরা এত্তো এত্তো ভালো। কতোজন আমার খোঁজ রাখে। জন্মদিনে শুধু গিফট আর গিফট। এতো গিফট যে কোথায় রাখি! কতো ফ্লাইং কিস যে ভেসে ভেসে আসে! চোখ বুঝে আমি শুধু ধরে নিই!  কিরে, কি করে পাঠায়? আরে পাঠানো লাগে নাকি সব তো ফেসবুকে দেয়,ওই যে, দাঁড়া দাঁড়া তোকে ছবি দেখাচ্ছি বলেই আমাকে ছবি দেখায়!        

ওরে ছি,  তাই নাকি! মলাম দেখি,আমি মনে করেছি সত্যি সত্যি গিফট!

এই তুই ফেসবুকের কি বুঝবি, তুই তো গেঁয়ো।এতো পড়াশোনা করেও বাটন ফোন ব্যবহার করিস। জানিস, কতোজন এই বয়সে বলে, এই তোমার কি বিয়ে হয়েছে! তুমি কোন ক্লাসে পড়ো! আমার যা জোস লাগে!

এই বড় আপা দারুণ জোসের ডোজ খেলেন।

তখনও ফেসবুকের সাথে আমার পরিচয় হয়নি। শুধু শুনেছি যারা বেশী স্মার্ট তারা ফেসবুক চালায়। আরে ভাই, ড্রাইভ করতে জানিনা, ড্রাইভার হয়ে বিনাশর্তে জীবন দেবো এতো বোকা আমি নই। তাই ফেসবুক খোলা হয়নি। বাটন ফোনে আবছা ছবি তুলি। ছবি তোলা মানে কখন কোন মুডে বসে আছি, তাই আর কি। ক্যামেরা ঘরে অভাব নেই,কিন্তু মুডের ব্যাপার বলে কথা অবশেষে ফেসবুক একাউন্ট খুলবো বলে খুলে ফেললাম। আহা, মধুর ফেসবুক। যে রিকু পাঠাই তাকে এড করি। ঠোঙ্গাওয়ালা, ঝালমুড়ি ওয়ালা থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত। নিত্য নতুন সুন্দর ছবি আপলোড করা আর সেই সাথে কাব্যিক ক্যাপশনে ভরপুর। আর শত শত কমেন্ট লাইক। লাইকের বন্যায় আমি সারাক্ষন লেপটপে বসি। তখনো এন্ড্রয়েডের কবলে পরিনি। কমেন্টের উত্তর লিখতে লিখতে আমার জান খানা বের হয়ে যায়! তবুও লিখতে হয় অতি সাধের ফেসবুক বলে কথা!

আমার এক নামী দামী দুলাভাই আমাকে বুঝাতে বুঝাতে সক্ষম হলো, ফ্রেন্ড নির্বাচন কি করে করে। ওমা এক সময় আবিষ্কার করলাম ফেসবুকের সবার সাথে আমি মহা সমোরোহে প্রেম করছি আর করছি। জন্মদিনের ছবি আকা গোলাপ পেয়েই আমি বেহুশ। টাইম লাইনেআপনার বন্ধুত্বে আমি ভীষণ খুশি!’ ও মোর আল্লাহ গো, এতো খুশি মুই কই রাখমু! খালি, আপনি বিশ্ব সুন্দরী!  বিয়ে হয়েছে নাকি ইউনোভারসিটিতে! এস এস সি সাল কতো! কতো জনরে ইন্টারভিউ দিতে দিতে আমি এখন ফেবুর প্রতিষ্টিতো অবস্থানে! এটা একদিনে হয়নি বুঝলেন!

আসলে কি জানেন, আমার মাথায় ঘিলু কম। ফেবুর কসম করে বলছি।আপনারা ভুল বুঝবেন না।

যাক বলেছিলাম আপুর কথা, আপু ফেসবুক বিষয়ে বিশেষ অজ্ঞ হয়ে স্বামী সন্তান রেখে পড়লেন এক তরতাজা নওজোয়ানের প্রেমে। সেই ছেলের আস্কারা পেয়ে মাস্কারা পরে দুলাভাইয়ের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু হলো! এদিকে প্রেম গভীর থেকে গভীরতর।

দুজন দুজনার ছবি দেখেছে। আপুর আইডি নিটোল ছিলো সে ছেলের আইডিতে যা যা ছিলো সব ভুয়া। একদিন এই ফেসবুক নিয়ে আপা দুলাভাইয়ের ঝগড়া। দুলাভাই বললো ফেসবুক চালানো যাবেনা। আপু শুধু ফেসবুক ছাড়লো না ধুলাভাইকে জনমের শিক্ষা দিতে সেই ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে ধরা খেলো। ছেলে দেখতে সুন্দর কিন্তু বাকি সব মিথ্যে! আপু কয়েক দিন থেকে বাসায় ফিরে এসে দেখে দুলাভাই লাল শাড়ি মোড়ানো নতুন বউ নিয়ে এসেছে। এটাও নাকি দুলাভাইয়ের ফেসবুক রাঙ্গানো বান্ধবী! কাকে দোষ দেবো, আপা কে নাকি দুলাভাইকে? নাকি সর্ব প্রেমের সমাধি টেনে সব ব্লক করা আমাকে? নাকি হালের ফেসবুককে! জানিনা! জানিনা! জানিনা!

শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম

Post a Comment

এ কেমন ডাকাত _ মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া

এ কেমন ডাকাত সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নি...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget