জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে

জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে
লেখালেখি'র একদম সময় পাচ্ছি না।
ইউনিভার্সিটি'তে যাচ্ছি। ক্লাস নিচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রী'দের থিসিস পড়ছি। পেপার রিভিউ করছি। ছাত্রদের থিসিস ডিফেন্সে থাকছি। এরপর বাসায় ফিরে খাচ্ছি, রোজকার মতো ব্যায়াম করছি, এরপর ঘুমিয়ে আবার ইউনিভার্সিটি! এই করেই কেটে যাচ্ছে।
এর মাঝেও ইনবক্স, আদারবক্স চেক করছি যতটুকু সময় পাওয়া যায়। আমার সৌভাগ্য'ই বলতে হবে- আপনারা অনেকেই আমাকে টেক্সট লিখে পাঠান। উত্তর দিতে না পারলেও আমি চেষ্টা করি সবার টেক্সট পড়ার।
তো, আজ মাস্টার্সের ছাত্রদের ডিফেন্স শেষ করে বাসায় ফেরার সময় "আদার বক্স চেক" করছিলাম। দেখি এক মেয়ে আমাকে টেক্সট করেছে। সেখানে যা লেখা আছে, সেটা আমি বরং তুলে দেই
Hey, your writing and your naughty like face attract me again and again but bad luck, I am not sure about your relationship status.
মানে দাঁড়াচ্ছে- আমার লেখা এবং আমার নটি লাইক ফেইস মেয়েটাকে বার বার আকর্ষণ করছে কিন্তু সে আমার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানে না!
মেয়েটার মেসেজ পড়ে আমি ইংরেজি ডিকশনারি ঘেঁটেছি "নটি" শব্দ'টার মানে কি, সেটা বুঝার জন্য।
এমন না, আমি জানি না এর সাধারণ মানে কি! স্রেফ ভালো ভাবে বুঝার জন্য। তো, ডিকশনারি'তে এই শব্দের মানে দেখে তো আমার চোখ কপালে উঠার জোগাড়!
এর মানে দাঁড়াচ্ছে - "খারাপ আচরণ" কিংবা "খারাপ ব্যাবহার" অথবা "অবাধ্য" টাইপ কিছু।
"নটি" শব্দের অর্থ জেনে বড্ড ইচ্ছে হচ্ছিলো, মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি- তুমি আসলে কোনটা বুঝিয়েছ?
আমার ঠিক জানা নেই, এই মেয়ে ঠিক কোন অর্থে বুঝিয়েছে। তবে সাধারণ অর্থে আমরা যা বুঝাই, হয়ত সেই অর্থেই বুঝিয়েছে।
কিন্তু বলতেই হচ্ছে, আমি এমন এক মানুষ- এক জীবনে মনে হয় না কারো সঙ্গে খুব একটা খারাপ আচরণ করেছি কিংবা খারাপ ব্যাবহার করেছি। এমনকি যেই ছেলেটা কিংবা মানুষটা আমার ভয়ানক ক্ষতি করেছে, মনে হয় না তাদের সঙ্গেও আমি জীবনে গিয়ে কোন দিন উঁচু গলায় কথা বলেছি কিংবা খারাপ আচরণ করেছি!
আমার যদি কোন শত্রুও থেকে থাকে, আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারব, সেও এসে বলতে পারবে না- আমি তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি।
আমি মানুষ'টাই বোধকরি এমন। এমনকি জীবনে কোন দিন কোন রকম ক্ষমতার প্রয়োগ করতে যাইনি এবং জীবনভর চেষ্টা করেছি আমার দ্বারা যেন মানুষের কোন ক্ষতি না নয়।
এইতো গতকাল'ই এমন এক পরিস্থিত'র সৃষ্টি হয়েছিলো। আমি স্রেফ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছি- আমার দ্বারা যাতে কোন দিন কারো ক্ষতি না হয়। সৃষ্টিকর্তা যেন আমাকে এমন পরিস্থিতে না ফেলে।
কারোন আমি জানি- ক্ষমতা মানুষকে কতোটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
এই লেখা অতি অবশ্য'ই কোন সরিয়াস বিষয়ের উপর না। স্রেফ মেয়েটার টেক্সট পেয়ে মনে হলো- মিনিট বিশেক সময় পাওয়া গিয়েছে, কিছু একটা লিখে ফেলি।
গতকাল ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরছি, হঠাৎ দেখি তুরস্ক থেকে আসা এক ছাত্র আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করছে
-কেমন আছো তুমি?
আমি তাকিয়ে দেখি তুরস্কের ছাত্রটা। মৃদু একটা হাসি দিয়ে বললাম
-এইতো, চলে যাচ্ছে। তুমি ভালো আছো তো?
-বেশ আছি।
এরপর ছেলেটা বলেছে
- আমার একচেঞ্জ প্রোগ্রাম শেষ হয়ে যাচ্ছে এই মাসে। আর কয়দিন পর চলে যাবো তুরস্কে। তোমাকে একটা কথা বলার খুব ইচ্ছে ছিল অনেক দিন ধরে। আজ বলেই দেই।
যেহেতু আমি শিক্ষক; ছেলেটা হয়ত সঙ্কোচ করছিল। আমি তাকে বললাম
-তুমি নিঃসঙ্কোচে বলে ফেলতে পারো। কথা বলার স্বাধীনতা জগতে সকল মানুষের আছে।
এইবার ছেলেটা হেসে যা বলেছে, তার অর্থ দাঁড়ায়
-আমিনুল, তোমার মাঝে কিছু একটা আছে। কেবল চৌম্বকের মতো আকর্ষণ করে। তুমি যখন রেগে-মেগে ক্লাসে একটু জোরে কথা বলার চেষ্টা করো, তখনও মনে হয়, কোথায় যেন একটা মায়া আছে। তোমাকে উপেক্ষা করা খুব কঠিন।
আমার ঠিক জানা নেই এই ছেলে কেন এই কথা বলেছে। আমি মৃদু হেসে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রাম ধরেছি।
খানিক আগে বাসায় ফিরেছি। ই-মেইল চেক করছিলাম। দেখি এক ভারতীয় ছাত্রী মেইল করেছে। সে তার মাস্টার্স থিসিস আমার সঙ্গে করতে চায়। আমি তাকে ফিরতি মেইল পাঠিয়ে জানতে চেয়েছি
-কেন তোমার মনে হচ্ছে তোমার থিসিস সুপারভাইজার আমি হতে পারি?
আমি আসলে আশা করছিলাম, মেয়টা নিশ্চয় লিখে পাঠাবে তার বিষয় আমার গবেষণার সাথে মিলে যায় কিংবা এই ধরনের সায়েন্টিফিক কিছু সে লিখে পাঠাবে। তো, এই মেয়ে লিখে পাঠিয়েছে
- তোমার মাঝে কিছু একটা আছে। স্রেফ আকর্ষণ করে। তাই ভাবলাম থিসিসের সময় টুকু কাজে লাগানো যাবে।
মেয়েটার মেইল পেয়ে এই লেখা লিখতে বসেছি। মিনিট দুয়েক আয়নায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে দেখেছি। এরপর প্রশ্ন করেছি- আকর্ষণের বিপরীত শব্দ'টা কি হবে? বিকর্ষণ নয় তো?
আচ্ছা, বিকর্ষণের মানে কি?
দূরে দূরে থাকা? অপছন্দ করা? নাকি দূরে থেকেও কাছে থাকা?
যাপিত জীবনে একটা বিষয় আমি খুব ভালো ভাবে শিখেছি- নিজেকে কখনো সহজলভ্য করা যাবে না। কোন পরিস্থিতেই না। নইলে মানুষজন সস্তা ভাবা শুরু করবে।
অন্য কোন সময় হলে ঠিক'ই চমৎকার করে কিছু একটা লিখে উত্তর পাঠিয়ে দিতাম। কিন্তু চলতি পথে যাপিত জীবনে দুটো জলজ্যান্ত মানুষকে চোখের সামনে অমানুষ হয়ে যেতে দেখেছি আমি। মানুষের প্রতি যে বিশ্বাস আমার ছিল, সেটা হয়ত আর অবশিষ্ট নেই।
তোমাদের কাউকে'ই হয়ত কোন দিন উত্তর দেয়া হবে না। তবে জেনে রেখো- ভালোবাসার অধিকার পৃথিবীর সকল মানুষের আছে। সেটা প্রকাশ করার অধিকারও সবার আছে। ভালোবাসা পাওয়া-না পাওয়া, সে তো ভাগ্যের হাতে। চেষ্টা করতে ক্ষতি কি। তবে যারা ভালোবাসি বলে এরপর সেটা স্বীকার করা তো অনেক দূরের ব্যাপার, ভয়ানক বিপদে ফেলে দিয়ে আর চিনতেও পারে না; তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
কারন, সবাই ভালবাসতে পারে না। ভালবাসতে জানতে হয়। সবাইকে ভালোবাসার ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি।

Post a Comment

স্বপ্নলোকের সিঁড়ি _ হাসনাহেনা রানু

স্বপ্নলোকের সিঁড়ি হাসনাহেনা রানু   আমি আসব বলে কি দাঁড়িয়েছিলে ধান সিড়ি নদীর তীরে ? ভালবাসবে বলে কি দু ' হাত বাড...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget