ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা।

ডাক্তারদের মহানুভবতা এবং ভুলের জন্য ড: আসিফ নজরুলের ক্ষমা প্রার্থনা।

খুন বা ধর্ষনের ঘটনায় ডাক্তারদের ময়না তদন্তে কখনো কখনো ভুল হয়. এজন্য বিচার করতে সমস্যা হয়। এমন বেশকিছু প্রতিবেদন গত কয়েক বছরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যেমন: এবছর (অক্টোবর ১৮, ২০২০) প্রকাশিত বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন ”ফরেনসিকের নেই জবাবদিহিতা, ঘুরে যায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন”।

এই প্রতিবেদনে, পুলিশ (পুলিশের বুর্যেই অব ইনভেষ্টিগেশন) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ভুলের কয়েকটি কারণের কথা বলেছে। এর মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে প্রভাবশালী কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেওয়া। বাকী গুলোর মধ্যে রয়েছে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের যথাযথ ফরেনসিক প্রশিক্ষণ না থাকা, ডোমদের ওপর ডাক্তারদের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত না করা, এবং ডাক্তারদের প্রণোদনার অভাব ইত্যাদি। সুত্র:
কয়েক বছর আগে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ময়নাতদন্ত ভুল হলে দায় কার?’ প্রতিবেদনটি অনুসারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘হত্যাকে আত্মহত্যা বলে ময়নাতদন্ত দেওয়া বা ময়নাতদন্তে অনেক তথ্য ঊহ্য রাখার বিষয়ে অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে।’ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক বলেছিলেন, ”ময়নাতদন্তে দক্ষতা ও প্রযুক্তির সংকটের কারণে অনেক সময় সঠিক তথ্য উঠে আসে না। তবে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও টাকার কাছে নতিস্বীকার করেও অনেক সময় মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়।”
এদুটো প্রতিবেদনে ময়না তদন্ত ভুলের বেশ কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনগুলোর অন্যতম বক্তব্য হচ্ছে ময়না তদন্তে ভুলের একটি কারণ হচ্ছে এক শ্রেনীর ডাক্তারদের সীমাবদ্ধতা বা প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া।
আমি সিলেটের রায়হান হত্যাকান্ডের ময়না রিপোর্ট্ প্রসঙ্গে আমার আগের একটি পোষ্টে এবিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। সেখানে আমি রায়হানের দ্বিতীয় ময়না তদন্তে আঘাতের চিহ্নগুলো এসেছে বলেছি। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কিছু পত্রিকায় এমনি ধারনা দেয়া হয়েছিল। যেমন

ফলে আমি পত্রিকা পড়ে ভুল করে ধরে নিয়েছিলাম যে, প্রথম ডাক্তারের প্রতিবেদনে এসব চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ সূত্র ধরে আমি ময়না তদন্তে যারা গাফলতি করে বা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেন জনস্বার্থে তাদের ফৌজদারী দায়দায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি আমার পোষ্টটিতে লিখেছিলাম। গাফলতি বা প্রভাবিত যে হয় (বা হওয়ার যে অভিযোগ আছে) তাতো প্রথম আলো আর বাংলা ট্রিবিউনে স্বযং মানবাধিকার কমিশন, আইন সালিশ কেন্দ্র আর পুলিশও বলেছে। কাজেই আগের পোষ্টটিতে আমার ভুল মূল বক্তব্যে না, ভুল উদাহরনে। তবু আমি এ ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দু:খিত। শুধুমাত্র উদাহরনগত ভুলের কারণে পোষ্টটি আমি ডিলিটও করেছি।

আরেকটা কথা। এ সমাজে ভালো ডাক্তার অনেক বেশী, কেউ কেউ থাকতে পারেন অন্যরকম। এটা তো সব পেশাতে হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আমি নিজে একশ্রেনীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আপত্তিকর কর্মকান্ড নিয়ে পত্রিকায় সমালোচনামূলক লেখা লিখেছি। কিন্তু অল্প কিছু শিক্ষক খারাপ কিছু করলে সবাই খারাপ হননা। তেমনি অল্প কিছু ডাক্তার খারাপ কিছু করলেও সবাই খারাপ হননা। ব্যক্তিজীবনে ডাক্তারদের মহানুভবতার অজস্র ঘটনা জানি, তাদের মহত্বের কথা লিখেছিও বিভিন্ন জায়গায়।

Post a Comment

এ কেমন ডাকাত _ মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া

এ কেমন ডাকাত সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নি...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget