আংটি _ তারেক আল মামুনের ভুতের গল্প

আংটি 

২০০০ সালের নভেম্বর মাস। জাকির সাহেব ব্যবসার কাজে ঢাকা যাচ্ছেন। টয়োটা করোলা সিরিজের রিকন্ডিশন গাড়ি। নিজেই ড্রাইভ করছেন। হালকা শীতের রাত। গাড়ির স্পিডোমিটারের কাটা ১০০ কিমি ছুঁই ছুঁই। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে শাঁ শাঁ করে ছুটছে গাড়ি। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ঝলমল করছে। রাশেদ সাহেবের নতুন একটা কন্ট্রাক্ট আগামীকাল সই হওয়ার কথা। তাই তেমন কোন প্রস্তুতি ছাড়াই রাতেই রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা। গাড়ি টাঙ্গাইল অতিক্রম করে গাজীপুরের রাস্তায়। ঘড়িতে ২.০০ বাজে। হঠাৎ করেই কয়েকটা ঝাঁকুনি দিয়ে গাড়িটা থেমে গেল। কয়েকবার চেষ্টা করেও ইন্জিন স্ট্রার্ট করাতে পারলেন না। রাশেদ সাহেব গাড়ি থেকে নেমে বয়ানট চেক করলেন। কি আশ্চর্য! ইঞ্জিনের পানি শেষ হয়ে গেছে! রাশেদ সাহেবের স্পষ্ট মনে আছে আজকে সকালেই পানি ভরিয়েছেন। যাই হোক গাড়িতে রাখা পানির বোতল খুঁজলেন। বোতলেও পানি নেই। উপায় না দেখে বোতল হাতে পানির খোঁজে একটু দূরে যেতেই দেখলেন সামনে একটা ছোট্ট ব্রিজ। চাঁদের আলোর ব্রিজের নিচে দিয়ে প্রবাহিত পানি চিকচিক করছে। রাশেদ সাহেব ব্রিজের নিচে গিয়ে পানি নিয়ে আসলেন। ঘড়িতে ৩.৩০। রাশেদ সাহেবের গাড়ি স্টার্ট নিয়েছে। গাড়ি ছুটে চলছে ঢাকার উদ্দেশ্যে।
অনেক দিন পার হয়ে গেছে। রাশেদ সাহেবের হাতে অনেক কাজ। এখন তিনি প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার। এখন প্রায়ই তাকে ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু রাত করে আর কখনও ঢাকা যাওয়া হয়নি। ২০০৫ সালের নভেম্বর মাস। জরুরি কাজে রাতেই ঢাকা যেতে হবে। রাশেদ সাহেবের ড্রাইভার সেদিন ছুটিতে। অনেকদিন একা ড্রাইভ করে ঢাকা যাওয়া হয়না। কিন্তু কী করা? আজ যেতেই হবে। হালকা শীতের রাত। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। রাশেদ সাহেবের নতুন পাজেরো গাড়ি ছুটছে গাজিপুর রাস্তায়। ঘড়ির কাটা ২ টা ছুঁই ছুঁই। হঠাৎ করেই ঝাঁকুনি দিয়ে গাড়ির স্ট্রার্ট বন্ধ হয়ে যায়। রাশেদ সাহেব গাড়ির ইঞ্জিন চেক করলেন। কার্বুরেটরে পানি নেই। তিনি পানির খোঁজে বের হন। আশেপাশে পানির কোন উৎস নেই। হঠাৎ একটু দূরে মাঠের মধ্যে একটা কুঁড়েঘরে টিপটিপ করে আলো জ্বলতে দেখলেন। চাঁদের আলোয় ঘরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রাশেদ সাহেব ঘরের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন ঘরে কেউ আছেন কিনা? ভিতর থেকে একটা ভারী মহিলা কণ্ঠ ভেসে আসলো। ----
কী চাই? ----- পানি। এক বোতল পানি দেন। মহিলাটি বললো জানালা দিয়ে বোতলটি দিন। রাশেদ বোতল দেওয়ার সময় খেয়াল করলো মহিলাটির ডান হাতের অনামিকার আঙুলে
কোন মাংস নেই। শুধু হাড়। রাশেদ সাহেবের গাঁ টা যেন ছমছম করে উঠলো। কিন্তু তিনি মোটেও ভয় পাওয়ার লোক নন। মহিলাটি পানির বোতল দেওয়ার সময় রাশেদ সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন ----- আপনার হাতে কী হয়েছে? আঙুলে মাংস নেই কেন?
------ সে অনেক কথা। আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে এমনি একটা চাঁদনী রাতে আমি নদীর ধারে মরে পরে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক নদীর ধারে পানি নিতে আসে। লোকটি পানি নিয়ে যাওয়ার সময় আমায় খেয়াল করে। লোকটির নজর পরে আমার হাতে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকা দামী হীরার আংটি। লোকটি আংটিটা খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার শরীরে পচন ধরায় নখ গুলো ফুলে যাওয়ায় লোকটি আংটি বের করতে ব্যর্থ হয়। প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টার পরে আমার আঙুলের মাংস সহ আংটিটি খুলে নেয়। সেই থেকে আমার অনামিকা আঙুলে মাংস নেই।
রাশেদ সাহেবের শরীর শীতের মধ্যেও ঘামতে শুরু করেছে। অস্পষ্ট গলায় মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করেন--- আপনি কি জানেন সেই লোকটি কে?
মহিলাটি চিৎকার করে বলে উঠলো----- তুই!!!
পরের দিন সকালে কৃষকেরা মাঠের মধ্যে একটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। লাশের শরীরে কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় লাশের ডান হাতের অনামিকা আঙুলে কোন মাংস নেই।
তারেক আল মামুন (তরুন)

Post a Comment

স্বপ্নলোকের সিঁড়ি _ হাসনাহেনা রানু

স্বপ্নলোকের সিঁড়ি হাসনাহেনা রানু   আমি আসব বলে কি দাঁড়িয়েছিলে ধান সিড়ি নদীর তীরে ? ভালবাসবে বলে কি দু ' হাত বাড...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget