ডাকাতি _ রত্না রায় চৌধুরীর লেখা ছোট গল্প


ডাকাতি
রত্না রায় চৌধুরী
অনেক অনেক দিন আগের কথা। সেই ছোট্ট বেলা। বয়স পাঁচ, ছয় হবে। তখন রাউজান আঁধারমানিক গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। সে সময় গ্রামে ডাকাতদের উপদ্রব বেশি হত। দিনের বেলা যেমন তেমন, রাতটা কাটতো প্রচন্ড ভয়ে। কখন কার উপর ডাকাত হামলে পড়ে। রাতের বেলা খেয়ে দেয়ে বউ-ঝি'রা থালাবাসন ধুতে পুকুরপাড়ে যেত। আমিও যেতাম সাথে। দেখতাম পুকুরের ওপারে ডাকাতদল সারি বেঁধে বসে আছে। মাঝে মাঝে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। সবাই যখন ঘুমিয়ে পরবে তখনই হামলা করবে। ডাকাতের ভয়ে দামি দামি জিনিসপত্র রাতের বেলা ছাদে তোলা আর দিনের বেলা নামিয়ে আনা ছিলো নিত্যদিনের কাজ। অনেক সময় ডাকাতরা লোক পাঠিয়ে আগের দিন ঘরের দরজায় চিঠি রেখে যেত আর জিনিসপত্র ঠিক রাখার জন্য হুঁশিয়ারি দিত। ডাকাতদের অত্যাচার সইতে না পেরে গ্রামের লোকজন পালা করে সারারাত পাহাড়া দিত। আর উচ্চস্বরে হুঁশিয়ার-সাবধান বলে ডাকাতদের সতর্ক করতো। এতো গেল ছোটবেলার কথা। আর একটা অভিনব ডাকাতির কথা বলি। একেবারে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে সূর্যালোকে ডাকাতি। সময়টা ১৯৯০ সালের মার্চ মাস। সে সময় রমজান মাস ছিল। তখন আমি সদ্য বিবাহিতা নববধূ। বেলা ১০ টা বাজে। আমি রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ দেখি ৫ জন লোক এলো আল্লাহর নামে জিকির করতে করতে। এসেই বললো আপনাদের অনেক ভাগ্য যে ন্যাংটা বাবার নাতি এসেছে আপনাদের ঘরে। উনি সবার ঘরে যান না। যে ঘরে যান সে ঘরের ভাগ্য খুলে যায়। আপনারা অবহেলা করবেন না, বসতে দিন। আমার শ্বাশুড়ি ছিলেন ধর্মভীরু। তিনি তাড়াতাড়ি চেয়ার এনে দিয়ে বসতে দিলেন। ওমনি শুরু হয়ে গেল অভিনয়। ওদের মধ্যে কেউ লোকটার পা টিপে দিচ্ছে, কেউ শরীর টিপে দিচ্ছে, আবার কেউ বাতাস করছে আর পাশাপাশি বাবা বাবা ডেকে হয়রান হচ্ছে। হঠাৎ ন্যাংটা বাবার নাতি বলে উঠলো - তোদের অনেক বিপদ। এক গ্লাস পানি নে। পানি পড়া খেতে হবে সবাইকে। আমার শ্বাশুড়ি পানি নিয়ে আসলেন। সাথে সাথে লোকটা কি সব মন্ত্র পড়ে পানিতে ফুঁ দিলেন এবং সবাইকে খেতে বললেন। সবাই একটু একটু খেলো। যেই খাওয়া সে কাজ। ওমনি সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত কাজ করতে শুরু করলো। ওরা যা বলছে আমরা তাই করছি। আমাদের নিজস্ব বোধশক্তি বলে কিছুই ছিল না। হঠাৎ করে তারা ঢুকে পরলো আমার সেজ দেবরের ঘরে। আমার দেবর কুমিল্লা দোলাই নবাবপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ছিলেন। ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছেন। ওনার ব্যাগ ভর্তি টাকা ছিলো। বাবাকে ঘর খরচের টাকা দেবেন বলে এনেছিলেন। আমার দেবরকে দেখে ওই লোক বলে উঠলো - তোর অনেক বিপদ, তুই বাঁচবি না। তোর জন্য ছাগল মানত করতে হবে। জীবের বদলে জীব দিতে হবে। মক্কা শরীফ গিয়ে কান্নাকাটি করতে হবে। এসব শুনে আমার দেবর ভয় পেয়ে যায়। আগেই বলেছি, পানি খাওয়ার পর আমাদের কারো বোধশক্তি ছিলো না। আমার দেবর যেই ব্যাগ খু্লে টাকা দিতে যাবে, ওমনি ওরা সব টাকাগুলো দেখে ফেলে এবং আরো দে আরো দে বলতে বলতে সব টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওখানে প্রায় ৩৫০০০ টাকা ছিলো। তারপর ব্যাগের মধ্যে ফুঁ দিয়ে বলে ব্যাগ বন্ধ কর। কেউ ঘর থেকে বের হবি না। এই বলে ঝড়ের বেগে সবাই ছুটে পালায় আর রাস্তায় গিয়ে খিল খিল করে হাসতে থাকে। চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পরে আমরা সম্বিত ফিরে পাই। তখন বুঝতে পারি এতক্ষন ধরে কি ঘটনা ঘটেছিলো। কিন্তু বুঝলে কি হবে, কারো কিছু করার ছিল না। এই ঘটনাটা আমি আজও ভুলতে পারি না।

Post a Comment

এ কেমন ডাকাত _ মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া

এ কেমন ডাকাত সরলা_ ও_ তার_ কাজের_ মেয়ে মোসাঃ জান্নাতুল মাওয়া চোর,ডাকাত ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপাটি এমনি হাজারো মানুষের সমাগম এদেশে। একটু বলে নি...

[blogger]

MD SAHIDUL

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget